রাজ্য – ডুয়ার্সের জঙ্গলের অন্যতম আকর্ষণ হলং বাংলো আবারও ফিরতে চলেছে নতুন সাজে। প্রকৃতিপ্রেমী ও পর্যটকদের কাছে শুধুমাত্র একটি বনবাংলো নয়, বরং এক আবেগের নাম হলং। জঙ্গলের নিস্তব্ধতা, ভোরবেলায় বাংলোর সামনে হাতির দল, গন্ডারের অবাধ বিচরণ এবং বন্যপ্রাণীর কাছাকাছি থাকার অনন্য অভিজ্ঞতা দীর্ঘদিন ধরে এই বাংলোকে বিশেষ পরিচিতি দিয়েছে।
তিন বছর আগে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছিল এই ঐতিহ্যবাহী কাঠের বাংলো। সেই ক্ষতি কাটিয়ে এবার নতুন করে গড়ে তোলা হচ্ছে হলং বনবাংলো। বনদফতর ও পূর্ত দফতরের যৌথ উদ্যোগে দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে নির্মাণকাজ। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী চললে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি বা মার্চ মাসের মধ্যেই পর্যটকদের জন্য আবার খুলে যেতে পারে বাংলোর দরজা।
সম্প্রতি নির্মীয়মাণ প্রকল্প পরিদর্শনে এসে বনমন্ত্রী মনোজ কুমার ওরাওঁ জানিয়েছেন, নতুন বাংলো তৈরির ক্ষেত্রে পুরনো ঐতিহ্য ও নান্দনিকতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পর্যটকদের আবেগের কথা মাথায় রেখে আগের কাঠের বাংলোর আদল ও পরিবেশ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।
প্রায় ৩ কোটি ৮৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মিত হতে চলা তিনতলা বাংলোটির ভিতরের অংশে শালকাঠের ফ্রেম এবং পাইন কাঠের আবরণ ব্যবহার করা হচ্ছে। বাইরের অংশ সেগুন কাঠ দিয়ে সাজানো হবে। যদিও ভবনের মূল কাঠামো কংক্রিটের, তবে বাহ্যিক রূপ এমনভাবে তৈরি করা হচ্ছে যাতে সেটি দেখতে অনেকটাই পুরনো ঐতিহ্যবাহী হলং বাংলোর মতো লাগে।
নির্মাণের পাশাপাশি নিরাপত্তার বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অতীতের অগ্নিকাণ্ডের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার আধুনিক অগ্নিনির্বাপণ ও অগ্নি প্রতিরোধ ব্যবস্থা সংযুক্ত করা হচ্ছে। ফলে পর্যটকদের নিরাপত্তা আরও নিশ্চিত হবে বলে মনে করছে প্রশাসন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৮ জুন রাতে শর্ট সার্কিটের কারণে ভয়াবহ আগুন লাগে হলং বাংলোয়। সেই অগ্নিকাণ্ডে ১৯৬৭ সালে নির্মিত ঐতিহাসিক কাঠের বাংলোটি সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে যায়। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এবার সেই হারানো ঐতিহ্যই নতুন রূপে ফিরে আসতে চলেছে ডুয়ার্সের জঙ্গলের বুকে।



















