নারী ও শিশু সুরক্ষায় বড় পদক্ষেপ, বাংলায় গড়ে উঠছে দুই মহিলা এসপিআরএফ ব্যাটালিয়ন

নারী ও শিশু সুরক্ষায় বড় পদক্ষেপ, বাংলায় গড়ে উঠছে দুই মহিলা এসপিআরএফ ব্যাটালিয়ন

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram



রাজ্য – রাজ্যে নারী ও শিশু সুরক্ষা আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। নারী নির্যাতন, শিশু সুরক্ষা এবং আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এবার সম্পূর্ণ মহিলা সদস্যদের নিয়ে দুটি নতুন ‘লেডি এসপিআরএফ’ (স্টেট পুলিশ রিজার্ভ ফোর্স) ব্যাটালিয়ন গঠনের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে রাজ্যের স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতরে।

ভবানী ভবনের পক্ষ থেকে পাঠানো এই প্রস্তাবে বাংলার দুই ঐতিহাসিক বীরাঙ্গনার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বাহিনী দুটির নামকরণের পরিকল্পনাও করা হয়েছে। নতুন ইউনিটগুলির নাম রাখা হচ্ছে ‘মাতঙ্গিনী হাজরা উইমেন এসপিআরএফ ব্যাটালিয়ন’ এবং ‘রানি শিরোমণি উইমেন এসপিআরএফ ব্যাটালিয়ন’।

প্রস্তাব অনুযায়ী, মহিলা পুলিশ বাহিনীর ক্রমবর্ধমান প্রয়োজনীয়তা পূরণ করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। মাতঙ্গিনী হাজরা উইমেন এসপিআরএফ ব্যাটালিয়নের সদর দফতর কোথায় হবে, তা জমির প্রাপ্যতা ও প্রশাসনিক প্রয়োজনের ভিত্তিতে পরবর্তীতে রাজ্য সরকার নির্ধারণ করবে।

অন্যদিকে রানি শিরোমণি উইমেন এসপিআরএফ ব্যাটালিয়নের জন্য ব্যারাকপুর পুলিশ ব্রিগেড এলাকায় অবস্থিত এসএপি-র অষ্টম ব্যাটালিয়নের পরিকাঠামো ব্যবহারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এসএপি-র ওই ব্যাটালিয়নকে ইতিমধ্যেই জঙ্গিপুর পুলিশ জেলার সুতি এলাকায় স্থানান্তরিত করা হয়েছে। ফলে বিদ্যমান অবকাঠামো ব্যবহার করে নতুন ব্যাটালিয়ন গঠন করলে সরকারি ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।

নতুন মহিলা বাহিনীর দায়িত্বের পরিধিও বিস্তৃত রাখা হয়েছে। নারী ও শিশু সুরক্ষা নিশ্চিত করা, শিশু কল্যাণমূলক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ, মানব পাচার বিরোধী অভিযান পরিচালনা এবং নারী সংক্রান্ত সংবেদনশীল মামলায় তদন্তে সহায়তা করা হবে এই বাহিনীর অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।

এছাড়াও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, দাঙ্গা দমন, বিশেষ নিরাপত্তা অভিযান, উৎসব ও বৃহৎ জনসমাবেশে ভিড় নিয়ন্ত্রণের কাজেও এই বাহিনীকে মোতায়েন করা হবে। প্রয়োজনে বিভিন্ন জেলা পুলিশ ও পুলিশ কমিশনারেটকে সরাসরি সহায়তাও করবে তারা।

সরকারি সূত্রের খবর, এই দুই ব্যাটালিয়ন গঠনের মাধ্যমে ২০০০-এরও বেশি নতুন পদ সৃষ্টি হতে পারে। ফলে নারী সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top