বিদেশ – মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ও সংঘাতের আবহে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সুইজারল্যান্ডে মুখোমুখি বৈঠকে বসেছে ইরান ও আমেরিকা। শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের পর দুই দেশের মধ্যে শুরু হওয়া এই উচ্চপর্যায়ের আলোচনা আন্তর্জাতিক মহলে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। একদিন আগেও কূটনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে উঠেছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকিসূচক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ প্রকাশ করে ইরানি প্রতিনিধি দল সাময়িকভাবে বৈঠকস্থল ত্যাগ করেছিল। তবে সেই অচলাবস্থা কাটিয়ে শেষ পর্যন্ত শান্তি প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় দুই পক্ষ।
সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টক রিসোর্টে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে কাতার ও পাকিস্তান। দুই দেশের পক্ষ থেকে প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, সমঝোতা স্মারকের আওতায় প্রথম দফার উচ্চপর্যায়ের আলোচনা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বৈঠকে ইরান ও আমেরিকার প্রতিনিধিরা বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ও বিতর্কিত বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছেন।
সূত্রের খবর, প্রথম পর্বের বৈঠক প্রায় ৮০ মিনিট স্থায়ী হয়। দীর্ঘ আলোচনার পর উভয় পক্ষ আগামী ৬০ দিনের জন্য একটি রোডম্যাপ তৈরিতে সম্মত হয়েছে। এই রোডম্যাপের মূল লক্ষ্য হবে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়ন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাতের সম্ভাবনা কমিয়ে আনা।
বৈঠকে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। এই কমিটি শান্তি প্রক্রিয়ার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করবে এবং প্রধান আলোচকদের কাছ থেকে নিয়মিত প্রতিবেদন গ্রহণ করবে। মধ্যস্থতাকারী দেশগুলির মতে, সপ্তাহজুড়ে বিভিন্ন স্তরে আরও আলোচনা চলবে এবং ধাপে ধাপে চূড়ান্ত সমঝোতার দিকে এগোনোর চেষ্টা করা হবে।
আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথ হিসেবে পরিচিত এই প্রণালি দীর্ঘদিন ধরেই আমেরিকা ও ইরানের ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কেন্দ্রবিন্দু। নতুন রোডম্যাপের আওতায় এই পথ দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে দুই দেশ সরাসরি যোগাযোগব্যবস্থা বা ‘সংযোগ’ স্থাপনের বিষয়েও সম্মত হয়েছে।
বৈঠকে ইরান ও আমেরিকার প্রতিনিধিদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির এবং কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান আল থানি। তাঁদের সক্রিয় মধ্যস্থতায় আলোচনার পরিবেশ ইতিবাচক হয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বৈঠক এবং ৬০ দিনের রোডম্যাপ বাস্তবায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফেরানোর ক্ষেত্রে তা একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে। যদিও এখনও বহু জটিল ইস্যুতে চূড়ান্ত সমাধান বাকি রয়েছে, তবুও আলোচনার টেবিলে দুই পক্ষের প্রত্যাবর্তনকে শান্তির পথে ইতিবাচক অগ্রগতি বলেই মনে করা হচ্ছে।


















