খেলা – ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ছয় উইকেটে পরাজিত হল ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দল। টানা দুই জয়ের পর এই হার ভারতের সেমিফাইনালের পথে কিছুটা ধাক্কা দিল। মারিজানে কাপের দুর্দান্ত অপরাজিত ইনিংসের সামনে শেষ পর্যন্ত মাথা নত করতে হয় হরমনপ্রীত কাউরের দলকে।
রবিবার টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন ভারত অধিনায়ক হরমনপ্রীত কাউর। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন স্মৃতি মান্ধানা ও শেফালি ভার্মা। স্মৃতি ১২ বলে ১৭ রান করে আউট হলেও শেফালি ১৫ বলে ৩১ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন। যস্তিকা ভাটিয়া ১৫ রান এবং জেমাইমা রডরিগেজ ১২ রান করে ফিরে গেলে কিছুটা চাপে পড়ে ভারত।
এরপর হরমনপ্রীত কাউর ও দীপ্তি শর্মা গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে দলকে এগিয়ে নিয়ে যান। যদিও তাঁদের ব্যাটিংয়ে রান তোলার গতি খুব বেশি ছিল না। হরমনপ্রীত ২২ বলে ২৪ রান করে আউট হন, আর দীপ্তি ২১ বলে ২৯ রান করেন। রিচা ঘোষও দলের প্রয়োজন অনুযায়ী বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। তিনি ১৪ বলে ১৫ রান করে সাজঘরে ফেরেন। নির্ধারিত ২০ ওভারে সাত উইকেট হারিয়ে ১৫৭ রান সংগ্রহ করে ভারত। দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে মারিজানে কাপ ও শবনিম ইসমাইল দুটি করে উইকেট দখল করেন।
১৫৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে সতর্ক সূচনা করে দক্ষিণ আফ্রিকা। অধিনায়ক লরা উলভার্ডাট ও তাজনিম ব্রিটস ধীরে-সুস্থে ইনিংস গড়তে শুরু করেন। তবে ষষ্ঠ ওভারে বল হাতে এসে ভারতকে ম্যাচে ফেরান শ্রী চরণী। একই ওভারে লরা উলভার্ডাট (২০) এবং অ্যানি ডার্কসেনকে (০) ফিরিয়ে দিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকাকে চাপে ফেলে দেন তিনি।
২৫ রানে দুই উইকেট হারানোর পর মারিজানে কাপ ও তাজনিম ব্রিটস অসাধারণভাবে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেন। তৃতীয় উইকেটে ৯৭ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে তাঁরা ভারতীয় বোলারদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। ব্রিটস ৩৬ বলে ৪০ রান করে আউট হলেও দক্ষিণ আফ্রিকার জয়ের ভিত তৈরি করে দেন।
অন্য প্রান্তে মারিজানে কাপ একাই লড়াই চালিয়ে যান। তাঁর বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের সামনে কার্যত অসহায় দেখায় ভারতীয় বোলিং আক্রমণকে। মাত্র ৪৫ বলে সাতটি চার ও তিনটি ছক্কার সাহায্যে অপরাজিত ৮১ রান করেন তিনি। কোলে ট্রায়ানও শেষদিকে ৪ বলে ১০ রান করে দলের জয় নিশ্চিত করেন। পাঁচ বল বাকি থাকতেই চার উইকেট হারিয়ে ১৬১ রান তুলে জয় ছিনিয়ে নেয় দক্ষিণ আফ্রিকা।
ভারতের হয়ে শ্রী চরণী সবচেয়ে সফল বোলার ছিলেন। তিনি ২৪ রান খরচ করে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট শিকার করেন। তবে তাঁর সেই লড়াকু পারফরম্যান্সও শেষ পর্যন্ত দলকে হার এড়াতে সাহায্য করতে পারেনি।



















