দক্ষিণ 24 পরগণা – দক্ষিণ ২৪ পরগনার নামখানায় হাতানিয়া-দোয়ানিয়া নদীতে সোমবার রাতে একটি ভয়াবহ নৌ-দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে। মাছ ধরার একটি ট্রলারের ধাক্কায় ‘এম.ভি মা অজন্তা’ নামের একটি লঞ্চ নদীগর্ভে তলিয়ে যায়। তবে দ্রুত উদ্ধারকাজের ফলে লঞ্চে থাকা সকল আরোহী প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কলকাতার ডকঘাট থেকে গোসাবার উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল ‘এম.ভি মা অজন্তা’ লঞ্চটি। নামখানা মৎস্য বন্দর অতিক্রম করে ভগবতপুরের দিকে যাওয়ার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা ‘এফবি করুণাময়ী’ নামের একটি মাছ ধরার ট্রলারের সঙ্গে তার সংঘর্ষ হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ট্রলারটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সজোরে লঞ্চটিতে ধাক্কা মারে। সংঘর্ষের জেরে লঞ্চটির একপাশ গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং দ্রুত ভেতরে জল ঢুকতে শুরু করে। ধাক্কার কয়েক মিনিটের মধ্যেই লঞ্চটি সম্পূর্ণভাবে নদীর জলে তলিয়ে যায়।
দুর্ঘটনার সময় লঞ্চটিতে চালক-সহ মোট পাঁচজন কর্মী উপস্থিত ছিলেন। আচমকা এই বিপর্যয়ে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু হওয়ায় বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়।
নদীতে উপস্থিত অন্যান্য মৎস্যজীবী এবং একটি পর্যটকবাহী লঞ্চের কর্মীরা দ্রুত উদ্ধার অভিযানে অংশ নেন। তাঁদের তৎপরতায় লঞ্চে থাকা পাঁচজনকেই নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। ফলে সম্ভাব্য বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।
ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত নামখানা থানার পুলিশ এবং প্রশাসনের আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। নদীর তলায় ডুবে যাওয়া লঞ্চটিকে উদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও বিশেষজ্ঞ দল নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।
দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে ইতিমধ্যেই প্রাথমিক তদন্ত শুরু হয়েছে। দুই নৌযানের মধ্যে কোনও গাফিলতি ছিল কি না, জলপথে চলাচলের নিয়ম লঙ্ঘিত হয়েছিল কি না অথবা প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে এই সংঘর্ষ ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
যদিও এই ঘটনায় কোনও প্রাণহানি ঘটেনি, তবুও ব্যস্ত হাতানিয়া-দোয়ানিয়া নদীপথে নৌ-নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধ করতে নদীপথে নজরদারি বৃদ্ধি, নিরাপত্তা বিধির কঠোর প্রয়োগ এবং নৌযান চলাচলের উপর আরও কড়া নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন।
সব মিলিয়ে অল্পের জন্য বড়সড় বিপর্যয় এড়ানো গেলেও এই দুর্ঘটনা নদীপথে যাত্রী ও নৌযানের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তদন্তের রিপোর্ট সামনে এলে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ছবি পাওয়া যাবে।




















