রাজ্য – পশ্চিমবঙ্গের যোগাযোগ ও পরিবহণ ব্যবস্থাকে আধুনিক রূপ দিতে একাধিক বৃহৎ প্রকল্পের ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেটে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত জানিয়েছেন, কলকাতার বাইরে বিভিন্ন জেলা শহরেও মেট্রো রেল পরিষেবা চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মালদহ ও পুরুলিয়ায় নতুন বিমানবন্দর, কলকাতার দ্বিতীয় বিমানবন্দর এবং একটি গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের কথাও ঘোষণা করা হয়েছে।
বাজেট বক্তৃতায় জানানো হয়েছে, উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়ি এবং শিল্পাঞ্চল দুর্গাপুর ও আসানসোলে মেট্রো পরিষেবা চালুর জন্য প্রাথমিক পরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে। দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সমীক্ষা ও প্রস্তুতির কাজ শুরু করার লক্ষ্য নিয়েছে সরকার। জনসংখ্যা বৃদ্ধি, শিল্পায়ন এবং বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের প্রসারের ফলে এই শহরগুলিতে আধুনিক গণপরিবহণ ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা দীর্ঘদিন ধরেই অনুভূত হচ্ছিল।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পূর্বেই জানিয়েছিলেন যে, উন্নয়নকে শুধু কলকাতাকেন্দ্রিক না রেখে জেলার পরিকাঠামো উন্নয়নের উপরও সমান গুরুত্ব দেওয়া হবে। এবারের বাজেটে সেই নীতিরই প্রতিফলন দেখা গেছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
বিমান পরিবহণ ক্ষেত্রেও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের ঘোষণা করা হয়েছে। দীর্ঘদিনের আলোচনার পর মালদহ ও পুরুলিয়ায় নতুন বিমানবন্দর নির্মাণের প্রস্তাবকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সরকারের মতে, এই প্রকল্পগুলি বাস্তবায়িত হলে উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহল অঞ্চলের সঙ্গে দেশের অন্যান্য অংশের যোগাযোগ আরও সহজ ও দ্রুত হবে।
এছাড়া কলকাতা বিমানবন্দরের উপর ক্রমবর্ধমান চাপ কমাতে মহানগরের নিকটবর্তী এলাকায় একটি দ্বিতীয় বিমানবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনাও ঘোষণা করা হয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে রাজ্যের বিমান পরিবহণ পরিকাঠামোয় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
সামুদ্রিক বাণিজ্য ও শিল্পোন্নয়নের ক্ষেত্রেও বড় উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার তাজপুর সংলগ্ন দাদনপাত্রবাড় এলাকায় গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণের পরিকল্পনা আবারও বাজেটে গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বন্দর চালু হলে পূর্ব ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য ও লজিস্টিক হাব হিসেবে গড়ে উঠতে পারে ওই অঞ্চল।
প্রতিরক্ষা পরিকাঠামো উন্নয়নের বিষয়েও গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। কলাইকুণ্ডা এবং হাসিমারা বায়ুসেনা ঘাঁটির সম্প্রসারণের জন্য প্রয়োজনীয় জমি বরাদ্দে রাজ্য সরকার সহযোগিতা করবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। এর ফলে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের কৌশলগত গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, এবারের বাজেটে যোগাযোগ ও পরিকাঠামো উন্নয়নকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। মেট্রো রেল, বিমানবন্দর এবং গভীর সমুদ্র বন্দর—এই তিন ক্ষেত্রের বৃহৎ প্রকল্পগুলি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে রাজ্যের অর্থনীতি, শিল্প, পর্যটন এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।




















