রাজ্য – পশ্চিমবঙ্গের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বিজেপি সরকারের বাজেটে ক্রীড়া উন্নয়নকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ফুটবল ক্লাবগুলিকে আর্থিক সহায়তা, নতুন স্পোর্টস ইউনিভার্সিটি, আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম নির্মাণ এবং গ্রামীণ স্তরে খেলাধুলার প্রসারের মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের ঘোষণা করা হয়েছে। ক্রীড়া অবকাঠামো ও প্রতিভা বিকাশে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ইঙ্গিত মিলেছে এবারের বাজেটে।
অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত জানিয়েছেন, জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী ক্লাবগুলিকে ১ কোটি টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। এই সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হতে পারে বাংলার ঐতিহ্যবাহী ফুটবল ক্লাবগুলি, যাদের উপর প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলের ক্রমবর্ধমান আর্থিক চাপ রয়েছে।
সরকারি ঘোষণার আওতায় রয়েছে ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগান, মহমেডান স্পোর্টিং-সহ মোট পাঁচটি ক্লাব। পাশাপাশি ইউনাইটেড এসসিকেও এই আর্থিক সহায়তার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
বিশেষ নজরে রয়েছে ডায়মন্ড হারবার ক্লাব। আইএসএলে তাদের অংশগ্রহণ নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হলেও, ক্লাবটি যদি শেষ পর্যন্ত আইএসএলে খেলার সুযোগ পায়, তাহলে তারাও এই অনুদানের সুবিধা পাবে। ক্রীড়ামহলের একাংশের মতে, এই পরিস্থিতি ভবিষ্যতে বাংলার ফুটবল কাঠামোয় নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে।
ক্লাবগুলির আর্থিক স্থিতি মজবুত করতে এই অনুদান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন ক্রীড়া বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের ব্যয় ক্রমশ বৃদ্ধি পাওয়ায় এই সহায়তা ক্লাবগুলির জন্য বড় স্বস্তি হতে পারে।
বাজেটের অন্যতম বড় ঘোষণা হলো একটি নতুন স্পোর্টস ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা। ক্রীড়া শিক্ষা, স্পোর্টস সায়েন্স, পেশাদার প্রশিক্ষণ এবং অ্যাথলেটিক্সের উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে এই বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলা হবে। এর জন্য প্রাথমিকভাবে ১৫০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
উত্তরবঙ্গের ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়নের জন্যও বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিলিগুড়িতে একটি আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম এবং একটি আধুনিক ইনডোর স্টেডিয়াম নির্মাণের ঘোষণা করা হয়েছে। এই প্রকল্পের জন্য প্রাথমিকভাবে ২০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
গ্রামীণ ও জেলা স্তরে খেলাধুলার প্রসারে ‘খেলো ইন্ডিয়া’ কর্মসূচি চালুর কথাও ঘোষণা করেছে সরকার। এই প্রকল্পের আওতায় রাজ্যের প্রতিটি বিধানসভা এলাকায় ধাপে ধাপে মিনি ইনডোর স্টেডিয়াম নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে ১০০টি মিনি ইনডোর স্টেডিয়ামের কাজ শুরু করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
এছাড়া জেলার পুরনো স্টেডিয়ামগুলির সংস্কার এবং রবীন্দ্র সরোবর স্টেডিয়ামের আধুনিকীকরণের জন্য ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। সরকারের দাবি, এই প্রকল্পগুলি বাস্তবায়িত হলে রাজ্যের ক্রীড়া পরিকাঠামোয় উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে।
আন্তর্জাতিক ও জাতীয় স্তরে সাফল্য পাওয়া ক্রীড়াবিদদের উৎসাহিত করতে বিশেষ পুরস্কার নীতির কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। পদকজয়ী ক্রীড়াবিদদের জন্য ইন্সপেক্টর থেকে ডেপুটি সুপারিন্টেন্ডেন্ট অফ পুলিশ (ডিএসপি) পদমর্যাদার চাকরির সুযোগ দেওয়ার নীতি তৈরির কাজ চলছে। পাশাপাশি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের পদকজয়ীদের পুরস্কৃত করতে ৫০ কোটি টাকার একটি বিশেষ তহবিল গঠনের প্রস্তাবও রাখা হয়েছে।
সব মিলিয়ে এবারের বাজেটে ফুটবল ক্লাব, ক্রীড়াবিদ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং ক্রীড়া শিক্ষাকে সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘোষিত প্রকল্পগুলি নির্ধারিত সময়ে বাস্তবায়িত হলে পশ্চিমবঙ্গের ক্রীড়া জগতে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক পরিবর্তনের পথ খুলে যেতে পারে।




















