ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পকে ধাক্কা সেনেটের, সামরিক সংঘাত বন্ধে প্রস্তাব পাস; শান্তি আলোচনায় নতুন সমীকরণ

ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পকে ধাক্কা সেনেটের, সামরিক সংঘাত বন্ধে প্রস্তাব পাস; শান্তি আলোচনায় নতুন সমীকরণ

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram



বিদেশ – ইরানের উপর চাপ সৃষ্টির কৌশলে খোদ মার্কিন সেনেটই বাধা তৈরি করেছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, তেহরান যখন আপসের পথে এগোতে শুরু করেছে এবং আলোচনার সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়েছে, ঠিক সেই সময় সেনেটের এই পদক্ষেপ আমেরিকার কূটনৈতিক অবস্থানকে কিছুটা দুর্বল করে দিয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরান নীতি থেকে তিনি সরে আসবেন না এবং নিজের লক্ষ্য পূরণে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবেন।

এদিকে, আগামী শুক্রবার সিয়াটেলে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচকে সামনে রেখে ইরান ফুটবল দলকে অতিরিক্ত প্রস্তুতির সুযোগ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন স্বরাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ম্যাচের দু’দিন আগেই ইরানি দলকে আমেরিকায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নিতে পারে।

এরই মধ্যে মার্কিন রাজনীতিতে বড় ঘটনা ঘটেছে। রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত সেনেটে ৫০-৪৮ ভোটে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব পাস হয়েছে, যার লক্ষ্য ইরানের সঙ্গে আমেরিকার সমস্ত সামরিক সংঘাত বন্ধ করা। তেহরানের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের অন্তর্বর্তী শান্তি চুক্তি কার্যকর থাকলেও, যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে সেনেটের এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রস্তাবটি ১৯৭৩ সালের ‘ওয়ার পাওয়ার্স অ্যাক্ট’-এর ভিত্তিতে আনা হয়েছে। এই আইনের মূল বক্তব্য অনুযায়ী, মার্কিন কংগ্রেসের স্পষ্ট অনুমোদন ছাড়া কোনও দেশের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযান চালানো যায় না। ফলে ভবিষ্যতে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রশাসনের উপর অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ আরোপ হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

ভোটাভুটিতে রিপাবলিকান দলের চার সেনেটর— লিসা মুরকোভস্কি, বিল ক্যাসিডি, সুসান কলিন্স এবং র্যান্ড পল— দলীয় অবস্থানের বাইরে গিয়ে ডেমোক্র্যাটদের সমর্থনে ভোট দেন। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাট সেনেটর জন ফেটারম্যান এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের জোরালো সমর্থক রিপাবলিকান নেতা মিচ ম্যাককনেল এবং ডেভিড ম্যাককরমিক ভোটাভুটিতে অংশগ্রহণ করেননি।

দুই দেশের মধ্যে শান্তি আলোচনা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, ইরানের বাজেয়াপ্ত অ্যাকাউন্ট থেকে যে অর্থ মুক্ত করা হবে, তা শুধুমাত্র খাদ্য ও ওষুধ কেনার ক্ষেত্রেই ব্যবহার করা যাবে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, মার্কিন ট্রেজারির অনুমোদিত অর্থ একটি বিশেষ নিয়ন্ত্রিত অ্যাকাউন্টে রাখা হবে এবং সেই অর্থ ব্যবহার করে কেবল আমেরিকা থেকেই খাদ্য ও চিকিৎসা সামগ্রী কেনা সম্ভব হবে।

তবে ট্রাম্পের এই শর্ত মানতে রাজি নয় ইরান। দেশটির বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, মুক্ত হওয়া অর্থ তেহরান নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করবে এবং শুধুমাত্র মার্কিন পণ্য কেনার কোনও বাধ্যবাধকতা তারা মেনে নেবে না।

এই কূটনৈতিক টানাপড়েনের মধ্যেই বিশ্ববাজারে স্বস্তির খবর এসেছে জ্বালানি খাতে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে আন্তর্জাতিক তেলবাহী ট্যাঙ্কারের চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আরও কিছুটা কমেছে। ফলে জ্বালানি সরবরাহে সম্ভাব্য সংকট কাটার ইঙ্গিত মিলছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে স্থিতিশীলতার আশা তৈরি হয়েছে।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top