দেশ – দেশে রেশন বিতরণ ব্যবস্থাকে আরও সহজ, স্বচ্ছ এবং সুবিধাজনক করে তুলতে কেন্দ্র সরকার ধারাবাহিকভাবে ডিজিটাল পরিষেবার ওপর জোর দিচ্ছে। সেই লক্ষ্যেই ‘ওয়ান নেশন, ওয়ান রেশন কার্ড’ (ONORC) প্রকল্পের আওতায় রেশন কার্ডধারীদের জন্য চালু হয়েছে নতুন সুবিধা। এর ফলে এখন আর কোনও নির্দিষ্ট রেশন দোকানের উপর নির্ভরশীল থাকতে হবে না গ্রাহকদের।
নতুন ব্যবস্থায় একজন রেশন গ্রাহক নিজের সুবিধা অনুযায়ী বিভিন্ন রেশন দোকান থেকে আলাদা আলাদা খাদ্যশস্য সংগ্রহ করতে পারবেন। অর্থাৎ, একটি দোকান থেকে গম এবং অন্য একটি দোকান থেকে চাল বা আটা নেওয়ার সুযোগ থাকবে। ফলে খাদ্যশস্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে গ্রাহকদের আরও বেশি স্বাধীনতা ও সুবিধা মিলবে।
এই পরিবর্তনের ফলে রেশন নেওয়ার জন্য দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার সমস্যাও অনেকটাই কমবে বলে মনে করা হচ্ছে। অনেক সময় বায়োমেট্রিক মেশিনে আঙুলের ছাপ না মেলা, কোনও নির্দিষ্ট দোকানে খাদ্যশস্যের ঘাটতি অথবা প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে গ্রাহকদের রেশন পেতে অসুবিধার মুখে পড়তে হয়। নতুন ব্যবস্থায় সেই সমস্যা অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।
কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রমন্ত্রী বি. এল. ভার্মা জানিয়েছেন, সরকার ‘ওয়ান নেশন, ওয়ান রেশন কার্ড’ প্রকল্পের মাধ্যমে রেশন বিতরণ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও জনবান্ধব করে তুলতে কাজ করছে। তিনি সমাজমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় জানান, রেশন কার্ডধারীরা তাঁদের বরাদ্দকৃত খাদ্যশস্যের অংশ নিজেদের প্রয়োজন ও সুবিধা অনুযায়ী বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করতে পারবেন।
এই প্রকল্পের অন্যতম বড় সুবিধা হল, দেশের যে কোনও রাজ্য বা শহরে অবস্থান করলেও একজন উপভোক্তা নিজের রেশনের অধিকার থেকে বঞ্চিত হবেন না। কর্মসূত্রে বা অন্য কোনও কারণে অন্য রাজ্যে থাকা মানুষরাও সহজেই এই সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন।
সরকারি সূত্রের মতে, এই পরিষেবাটি অনেকটা এটিএম ব্যবস্থার মতো কাজ করবে। যেমন একজন ব্যক্তি দেশের যে কোনও এটিএম থেকে নিজের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের টাকা তুলতে পারেন, ঠিক তেমনই রেশন কার্ডধারীরাও দেশের যে কোনও প্রান্ত থেকে নিজেদের বরাদ্দকৃত খাদ্যশস্য সংগ্রহ করতে পারবেন।
নতুন এই ব্যবস্থা কার্যকর হলে পরিযায়ী শ্রমিক, কর্মজীবী মানুষ এবং ঘন ঘন স্থান পরিবর্তনকারী পরিবারের জন্য রেশন পাওয়ার প্রক্রিয়া আরও সহজ ও সুবিধাজনক হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এর ফলে দেশের খাদ্য সুরক্ষা ব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী হবে।




















