কলকাতা – এক সময় কালীঘাটের হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের বাড়ি ছিল তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের কাছে সহজে পৌঁছনোর একটি ঠিকানা। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর নিরাপত্তাজনিত কারণে সেই বাড়িতে সাধারণ কর্মীদের অবাধ যাতায়াত অনেকটাই সীমিত হয়ে গিয়েছিল। তবে রাজনৈতিক পালাবদলের পর নতুন পরিস্থিতিতে ফের কালীঘাটের বাড়ির দরজা খুলে দিতে চলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের কঠিন সময়ে কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর লক্ষ্যেই তিনি ‘জনতার দরবার’ শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে দলীয় সূত্রে খবর।
জানা গিয়েছে, কেবল দলীয় কর্মী বা সমর্থকদের সঙ্গেই নয়, সাধারণ মানুষের সমস্যার কথাও শুনবেন তিনি। দলের সংগঠনকে পুনরুজ্জীবিত করতে এবং নিচুতলার কর্মীদের সঙ্গে প্রত্যক্ষ যোগাযোগ স্থাপন করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে দলের বর্তমান পরিস্থিতিতে কর্মীদের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিতে চাইছেন মমতা।
বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে। দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেসে ভাঙন দেখা দিয়েছে এবং দলের একাধিক শীর্ষ নেতা ও জনপ্রতিনিধি আলাদা রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েছেন। এর ফলে সংগঠনের ভিত মজবুত রাখা এবং কর্মীদের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনা এখন অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের নেতৃত্বের সামনে।
এই পরিস্থিতিতে দলত্যাগী বিধায়ক ও সাংসদদের প্রভাব যাতে তৃণমূলের তৃণমূল স্তরের সংগঠনের উপর না পড়ে, সেজন্যই সরাসরি জনসংযোগ বৃদ্ধির কৌশল নিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্রের খবর, তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রতিদিন কালীঘাটের বাসভবনে ‘জনতার দরবার’ বসাবেন। প্রতিদিন দুপুর তিনটে থেকে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত দলীয় নেতা, কর্মী, সমর্থক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলবেন তিনি।
শুধু কালীঘাটের বাড়িতেই নয়, তৃণমূল কংগ্রেসের পার্টি অফিসেও ‘জনতার দরবার’-এর আয়োজন করা হবে। সেখানে উপস্থিত থাকবেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সংগঠনের সঙ্গে সাধারণ মানুষের দূরত্ব কমানো এবং কর্মীদের সক্রিয় ভূমিকা নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে।
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত শনিবার ঘনিষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে এই পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণকারী সংস্থা আইপ্যাককে ভবিষ্যতে সংগঠনের অভ্যন্তরীণ কাজে আর হস্তক্ষেপ করতে দেওয়া হবে না। সংগঠনের দায়িত্ব সংগঠনের নেতাকর্মীরাই সামলাবেন বলে মত প্রকাশ করেছেন তিনি।
এছাড়াও দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ক্রিয় হয়ে থাকা দলীয় নেতা ও কর্মীদের ফের সক্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। অভিমান বা ক্ষোভে দূরে সরে থাকা কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁদের সংগঠনের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে সংগঠনকে পুনর্গঠন এবং কর্মীদের মনোবল বাড়াতেই এই নতুন কৌশলে এগোতে চাইছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।



















