রাজ্য – অতিভারী বৃষ্টির জেরে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া শিলিগুড়ি-মিরিক সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক করতে এবার ময়দানে নামল ভারতীয় সেনাবাহিনী। মঙ্গলবার থেকে দুধিয়া এলাকায় বেইলি ব্রিজ নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। প্রশাসনের আশা, এই সেতু তৈরি হয়ে গেলে শিলিগুড়ি ও মিরিকের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা ফের স্বাভাবিক হবে এবং দীর্ঘদিনের ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাবেন সাধারণ মানুষ।
গত বৃহস্পতিবার রাতে প্রবল বৃষ্টির কারণে বালাসন নদীর জলস্তর হঠাৎ বেড়ে যায়। নদীর তীব্র স্রোতে স্টেট হাইওয়ে ১২-এর উপর নির্মিত হিউমপাইপের অস্থায়ী সেতুর একটি বড় অংশ ভেঙে যায় এবং ভেসে চলে যায় বহু দূরে। জানা গিয়েছে, হিউমপাইপগুলির কিছু অংশ প্রায় এক থেকে দেড়শো মিটার দূরে গিয়ে পড়েছে। এর ফলে শুক্রবার ভোর থেকে দুধিয়া হয়ে যাতায়াতকারী রাজ্য সড়ক সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়। শিলিগুড়ির সঙ্গে মিরিকের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত সেনাবাহিনীর সহযোগিতা চাওয়া হয়। এরপর শনিবার ও রবিবার পরপর দু’দিন সেনাবাহিনীর আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিস্তারিত পরিদর্শন ও মাপজোখ করেন। রবিবার দার্জিলিংয়ের জেলাশাসক হরিশংকর পানিক্কার এবং সেনাবাহিনীর প্রতিনিধিরাও যৌথভাবে এলাকা পরিদর্শন করে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন।
মঙ্গলবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বেইলি ব্রিজ নির্মাণের কাজ শুরু করে সেনাবাহিনী। একই দিনে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য ঘটনাস্থলে যান পূর্ত দপ্তরের প্রধান সচিব অন্তরা আচার্য, চিফ ইঞ্জিনিয়ার এবং অন্যান্য প্রশাসনিক আধিকারিকরা। ক্ষতিগ্রস্ত অস্থায়ী সেতুটি শিলিগুড়ি থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এবং মিরিক উপত্যকার সঙ্গে শিলিগুড়ির যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে পরিচিত।
উল্লেখ্য, দুধিয়ার এই সংযোগপথটি ভারত-নেপাল সীমান্ত সংলগ্ন অঞ্চলে অবস্থিত। ফলে সেতুটি ভেঙে পড়ার কারণে শুধু স্থানীয় বাসিন্দারাই নয়, পর্যটক এবং সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষও সমস্যার মুখে পড়েছেন। বর্তমানে যাত্রীদের বিকল্প ও দীর্ঘ পথ ব্যবহার করে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে।
দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা জানিয়েছেন, তিনি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে অনুরোধ করেছিলেন যাতে দ্রুত বেইলি ব্রিজ নির্মাণের জন্য ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং বর্ডার রোডস অর্গানাইজেশনকে কাজে লাগানো হয়। সেই প্রস্তাব অনুযায়ী বর্তমানে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় সেতু নির্মাণের কাজ চলছে।
প্রশাসনের আশা, দ্রুত বেইলি ব্রিজ নির্মাণ সম্পন্ন হলে শিলিগুড়ি-মিরিক সড়ক যোগাযোগ আবারও স্বাভাবিক হবে এবং এলাকার অর্থনীতি, পর্যটন ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতের উপর যে প্রভাব পড়েছে, তা অনেকটাই কমে আসবে।




















