মালদা – মঙ্গলবার বিকেলে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার জেরে রাজ্যের একাধিক জেলায় বজ্রাঘাতে মৃত্যুর মর্মান্তিক খবর সামনে এসেছে। মালদহ, মুর্শিদাবাদ, পুরুলিয়া, উত্তর ২৪ পরগনা, কোচবিহার এবং বাঁকুড়া মিলিয়ে অন্তত ১৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ। বিভিন্ন এলাকায় বজ্রপাতের ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।
সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনাটি ঘটে মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ান গঙ্গাঘাট থেকে মালদহের পারলালপুর ঘাটের উদ্দেশে যাওয়া একটি যাত্রীবাহী নৌকায়। প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন যাত্রী নিয়ে নৌকাটি গঙ্গা পার হচ্ছিল। ঘাটে পৌঁছানোর কয়েক মুহূর্ত আগে আচমকা আকাশ কালো করে প্রবল বৃষ্টি শুরু হয় এবং সঙ্গে তীব্র বজ্রবিদ্যুৎ দেখা দেয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, হঠাৎ বিকট শব্দে বজ্রপাত হতেই নৌকার মধ্যে একাধিক যাত্রী মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে আসাদুল্লাহ শেখ (৮০), আনসার শেখ (৪৫), একরামুল শেখ (৮০) এবং কোচি শেখ (২৫)-এর। গুরুতর জখম হয়েছেন অন্তত ১৫ জন যাত্রী।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রশাসনের উদ্যোগে দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু হয়। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে মালদহ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও অধিকাংশকে সামশেরগঞ্জের অনুপনগর ব্লক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কয়েকজনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁদের জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে সামশেরগঞ্জ থানার পুলিশ। মৃতদেহগুলি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
অন্যদিকে মালদহের বৈষ্ণবনগর থানার জয়েনপুরের আবু মোল্লাপাড়া এলাকায় পাটের জমিতে কাজ করার সময় বজ্রাঘাতে মৃত্যু হয়েছে দুই ভাই সালেক মিঁয়া (৩৫) এবং জাহাঙ্গির মিঁয়া (২৯)-এর। বজ্রপাতে গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁদের বেদরাবাদ গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।
পুরুলিয়াতেও তিনটি পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে দুই ব্যক্তির। মৃতদের নাম প্রতিমা মাহাতো (৫৪) এবং কেশব মাহাতো (৪৮)। দু’জনেরই বাড়ি জয়পুর থানা এলাকায়। এছাড়া পুরুলিয়া শহরের দুলমিতে এক যুবক আহত হয়েছেন। বরাবাজার থানার গুসাইডি গ্রামে বজ্রাঘাতে গুরুতর আহত হয়েছেন দুই কিশোরী বোন।
উত্তর ২৪ পরগনার কাঁচরাপাড়ায় সূর্য কলোনি মাঠে বজ্রাঘাতে মৃত্যু হয়েছে বিবেকানন্দ সরকার (৩৯) নামে এক ব্যক্তির। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ঝড়-বৃষ্টির সময় কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে মাঠে বসে ফোনে কথা বলছিলেন তিনি। সেই সময় আচমকা বজ্রপাত হলে তিনি গুরুতরভাবে আহত হন। দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
কোচবিহারেও বজ্রপাতের পৃথক দুটি ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে দু’জনের। শীতলকুচি ব্লকের সাটিমারি গ্রামে ভোরবেলা গরু আনতে গিয়ে বজ্রাঘাতে প্রাণ হারান মেনকা বর্মণ (৫০)। অন্যদিকে সুটকাবাড়ি এলাকায় কৃষিজমিতে কাজ করার সময় বজ্রপাতে মৃত্যু হয় আরমান হোসেন নামে এক যুবকের। এই দুই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত চারজন।
বাঁকুড়ার খাতরা মহকুমার রায়পুর ব্লকেও বজ্রাঘাতের জেরে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। সিয়াড়বেদ্যা গ্রামের শংকর চালক (৪০) এবং মধুপুর গ্রামের বুদ্ধেশ্বর মান্ডি (৩৫) বজ্রাঘাতে গুরুতর আহত হন। তাঁদের রায়পুর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা দু’জনকেই মৃত বলে ঘোষণা করেন।
একদিনে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ধারাবাহিক বজ্রপাতের ঘটনায় বহু পরিবারের ওপর নেমে এসেছে শোকের ছায়া। আবহাওয়া দপ্তর ইতিমধ্যেই বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির সময় খোলা মাঠ, নদী ও জলাশয়ের কাছাকাছি না থাকার পরামর্শ দিয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার আবেদন জানানো হয়েছে।




















