রাজ্য – রাজ্যে পরিবর্তনের পর জাতীয় সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে বলে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রবীন্দ্র সদনে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (আরএসএস)-এর এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি সীমান্ত সুরক্ষা, অনুপ্রবেশ রোধ এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিয়ে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্যে সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার এবং বেআইনি অনুপ্রবেশ রোধে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, ক্ষমতায় আসার পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত নিরাপত্তা শক্তিশালী করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ ও অন্যান্য নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় জমি ইতিমধ্যেই বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে এবং আরও জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়াও চলছে। জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এই পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
অনুপ্রবেশ রোধে সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে ‘হোল্ডিং স্টেশন’ তৈরি করা হয়েছে বলেও জানান শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, বেআইনিভাবে সীমান্ত পেরিয়ে আসা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে ওই হোল্ডিং স্টেশনগুলিতে রাখা হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাঁদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে। তিনি দাবি করেন, বেআইনি অনুপ্রবেশের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক ও রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপ রুখতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এদিন নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ)-এর প্রসঙ্গও তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ধর্মীয় নির্যাতনের কারণে প্রতিবেশী দেশ থেকে ভারতে আশ্রয় নেওয়া ব্যক্তিদের অনুপ্রবেশকারী হিসেবে দেখা উচিত নয়। তাঁর মতে, সিএএ-র আওতায় আসা যোগ্য ব্যক্তিরা শরণার্থী এবং তাঁদের বিষয়টি আইন অনুযায়ী বিবেচনা করা হবে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, আরএসএস-এর মঞ্চ থেকে সীমান্ত সুরক্ষা, অনুপ্রবেশ রোধ এবং সিএএ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্য আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। সীমান্ত নিরাপত্তা ও অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা নিয়ে সরকারের অবস্থান আরও স্পষ্ট করার প্রচেষ্টা হিসেবেও এই বার্তাকে দেখা হচ্ছে।




















