হুগলি – রামনবমীর শোভাযাত্রাকে ঘিরে ২০২৩ সালের রিষড়া হিংসার মামলায় নতুন মোড় এসেছে। আরামবাগের প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ অপরূপা পোদ্দারের স্বামী এবং স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলর শাকির আলিকে গ্রেফতারের পর এবার তাঁকে নিজেদের হেফাজতে চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। বুধবার আদালতে এনআইএ দাবি করেছে, রামনবমীর দিন এলাকায় অশান্তির মূল চক্রান্তকারী ছিলেন শাকির আলি। পাশাপাশি তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, তাঁর নির্দেশেই ইট ও বোমা জোগাড় করা হয়েছিল।
২০২৩ সালের রামনবমীর শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে হুগলির রিষড়ায় ব্যাপক হিংসার ঘটনা ঘটে। একের পর এক বোমাবাজি, ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগে গোটা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসনকে কয়েকদিন ধরে কার্যত কারফিউ জারি করতে হয়। ঘটনার দিন তৎকালীন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ এলাকায় একটি কর্মসূচি সেরে বেরিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই হিংসা ছড়িয়ে পড়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে।
এই ঘটনার তদন্তে সম্প্রতি শাকির আলিকে গ্রেফতার করে এনআইএ। আদালতে তাঁকে দু’দিনের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। যদিও আদালত বিচারবিভাগীয় হেফাজতের নির্দেশ দিলেও, জেলে গিয়েই শাকিরকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে তাদের কোনও আপত্তি নেই বলে জানিয়েছে এনআইএ।
তদন্তকারীদের দাবি, শাকির আলির বাড়ি থেকে ৩৬ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, উদ্ধার হওয়া কার্তুজগুলি একই ধরনের অস্ত্রের জন্য নয়। ফলে সেগুলি ঠিক কোন অস্ত্রে ব্যবহার করার উদ্দেশ্যে মজুত রাখা হয়েছিল, তা জানতে কার্তুজগুলি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে। এই রিপোর্ট তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করছে তদন্তকারী সংস্থা।




















