রাজ্য – রাজ্যসভার তিনটি শূন্য আসনে উপনির্বাচনের দিন ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। আগামী ২৪ জুলাই ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। তবে পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণে সবচেয়ে বেশি চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে তৃণমূল কংগ্রেসের অবস্থান। ৮০টি বিধানসভা আসনে জয় পেলেও এবার রাজ্যসভার উপনির্বাচনে কার্যত প্রার্থী দেওয়ার অবস্থায় নেই দলটি।
সম্প্রতি তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে রাজনৈতিক অস্থিরতার জেরে রাজ্যসভা থেকে ইস্তফা দেন তিন সাংসদ—সুখেন্দু শেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইক। পরে তাঁরাও দল ছাড়েন। এই তিনটি শূন্য আসনের জন্যই নির্বাচন কমিশন উপনির্বাচনের বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে।
নির্বাচন কমিশনের সূচি অনুযায়ী, ১৪ জুলাই মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন। ১৫ জুলাই মনোনয়নপত্র যাচাই হবে এবং ১৭ জুলাই মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন। ভোটগ্রহণ হবে ২৪ জুলাই। সুখেন্দু শেখর রায় ও প্রকাশ চিক বরাইকের সাংসদ হিসেবে মেয়াদ ছিল ২০২৯ সাল পর্যন্ত। অন্যদিকে, সুস্মিতা দেবের মেয়াদ ছিল ২০৩০ সাল পর্যন্ত।
চলতি বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ২০৮টি আসনে জয়লাভ করে সরকার গঠন করেছে। তৃণমূল কংগ্রেস জিতেছে ৮০টি আসনে। সাধারণ সংখ্যার হিসেবে তৃণমূলের একটি রাজ্যসভা আসনে প্রার্থী দেওয়ার সুযোগ থাকার কথা ছিল।
কিন্তু দলের অভ্যন্তরীণ বিভাজনের ফলে সেই সমীকরণ বদলে গেছে। বর্তমানে তৃণমূলের বিধায়করা দুই শিবিরে বিভক্ত। ঋতব্রত শিবিরে রয়েছেন ৬৫ জন বিধায়ক, অন্যদিকে কালীঘাট তথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে রয়েছেন ১৫ জন বিধায়ক।
রাজনৈতিক সংঘাত এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, দুই শিবিরের মধ্যে পারস্পরিক সমর্থনের সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে। ফলে ঋতব্রত শিবিরের হাতে কার্যত ৬৫টি ভোটই রয়েছে, যা রাজ্যসভার একটি আসন জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় সমর্থনের তুলনায় কম। সেই কারণেই এবার রাজ্যসভার উপনির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী দেওয়া কার্যত অসম্ভব হয়ে উঠেছে বলে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।




















