দেশ – হোয়াটসঅ্যাপের প্রস্তাবিত ‘ইউজারনেম’ ফিচার ঘিরে বিতর্ক ক্রমশ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে মেটাকে পাঠানো কেন্দ্রীয় সরকারের নোটিসের জবাব দেওয়ার সময়সীমা আরও বাড়ানো হয়েছে। আগে ৬ জুলাইয়ের মধ্যে জবাব দিতে বলা হলেও, এবার কেন্দ্রীয় বৈদ্যুতিন ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক সেই সময়সীমা বাড়িয়ে ৯ জুলাই পর্যন্ত করেছে।
প্রস্তাবিত নতুন ফিচার চালু হলে ব্যবহারকারীরা ফোন নম্বর শেয়ার না করেও হোয়াটসঅ্যাপে চ্যাট করতে পারবেন। অর্থাৎ, মোবাইল নম্বরের পরিবর্তে একটি নির্দিষ্ট ‘ইউজারনেম’-এর মাধ্যমে যোগাযোগ করা সম্ভব হবে। এতে ব্যক্তিগত ফোন নম্বর গোপন রেখেই কথোপকথন চালানো যাবে, যা অনেক ব্যবহারকারীর জন্য সুবিধাজনক হতে পারে।
সূত্রের খবর, এই ব্যবস্থায় ব্যবহারকারীরা এমন ইউজারনেম বেছে নিতে পারবেন, যা কোনও বৈধ সংস্থা, প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির নামের সঙ্গে মিল থাকতে পারে। এখানেই উদ্বেগের কারণ দেখছে কেন্দ্র। কারণ, ভুয়ো পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণা, পরিচয় জালিয়াতি বা সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বর্তমানে ব্যক্তিগত আলাপচারিতা থেকে শুরু করে অফিসের গুরুত্বপূর্ণ কাজ—সব ক্ষেত্রেই হোয়াটসঅ্যাপ একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় যোগাযোগ মাধ্যম। এতদিন পর্যন্ত নতুন করে কারও সঙ্গে চ্যাট শুরু করতে হলে তাঁর মোবাইল নম্বর প্রয়োজন হতো। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই ব্যবহারকারীরা ব্যক্তিগত নম্বর শেয়ার করতে অনিচ্ছুক থাকেন। সেই সমস্যার সমাধান করতেই মেটা এই নতুন ফিচার আনার পরিকল্পনা করেছে।
তবে কেন্দ্রের আশঙ্কা, এই সুবিধার অপব্যবহার হলে অনলাইন জালিয়াতি, সাইবার অপরাধ এবং ভুয়ো পরিচয়ের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে। পাশাপাশি ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তাও প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। সেই কারণেই মেটার কাছে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চেয়েছে কেন্দ্র।
সংবাদসংস্থা পিটিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, কেন্দ্র ইতিমধ্যেই প্রস্তাবিত ‘ইউজারনেম’ ফিচারকে ঘিরে বিদ্যমান আইনি কাঠামো এবং বিভিন্ন আইনগত দিক খতিয়ে দেখেছে। সমস্ত দিক পর্যালোচনা করে নিশ্চিত হওয়ার পরই ভারতে এই নতুন ফিচার চালুর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।




















