কলকাতা – বারুইপুরে নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় এবার স্বতঃপ্রণোদিতভাবে হস্তক্ষেপ করল জাতীয় মহিলা কমিশন। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে কমিশন গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের ডিজিপির কাছে আগামী সাত দিনের মধ্যে একটি বিস্তারিত ‘অ্যাকশন টেকেন রিপোর্ট’ জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
জাতীয় মহিলা কমিশনের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) এবং পকসো আইনের উপযুক্ত ধারায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখে কমিশনকে জানাতে হবে। পাশাপাশি এই নৃশংস অপরাধের সঙ্গে জড়িত সকল অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তার করা এবং তদন্তের বর্তমান অগ্রগতির বিস্তারিত তথ্যও রিপোর্টে উল্লেখ করতে হবে।
কমিশন শুধু ধর্ষণ ও খুনের ঘটনাই নয়, ঘটনার পর বারুইপুরে ছড়িয়ে পড়া গণহিংসা ও গণপিটুনির ঘটনাকেও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছে। ওই ঘটনার তদন্ত কতদূর এগিয়েছে এবং হিংসার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।
এছাড়াও স্থানীয়দের পুলিশের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগের বিষয়টিও খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নাবালিকার দেহের ফরেন্সিক পরীক্ষা এবং ময়নাতদন্ত যাতে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও নির্ভুলভাবে সম্পন্ন হয়, সেই বিষয়েও জোর দিয়েছে জাতীয় মহিলা কমিশন।
ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত আনন্দ সর্দার-সহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আরও তিনজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। গোটা ঘটনার তদন্তে ছয় সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) কাজ করছে।
সোমবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, এই নৃশংস ঘটনায় রাজ্য সরকারের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’। নির্যাতিতার পরিবারের দাবি অনুযায়ী দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে সরকার প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ করবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন। মঙ্গলবার বারুইপুর পুলিশ সুপারের দপ্তরে গিয়ে তদন্তের অগ্রগতি পর্যালোচনা করার কথা রয়েছে তাঁর। পাশাপাশি ভবানীভবনে নির্যাতিতার বাবার সঙ্গেও তাঁর সাক্ষাৎ হতে পারে।




















