অফ বিট – বরফে ঢাকা পাহাড়, সবুজ তৃণভূমি, ঘন দেবদারু বন আর শান্ত হ্রদের অপূর্ব মেলবন্ধন উপভোগ করতে চাইলে হিমাচল প্রদেশের খাজ্জিয়ার হতে পারে আপনার পরবর্তী ভ্রমণ গন্তব্য। চম্বা জেলার এই মনোরম পাহাড়ি শহরটি তার অসাধারণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য ‘মিনি সুইৎজারল্যান্ড অব ইন্ডিয়া’ নামে পরিচিত। ১৯৯২ সালে সুইৎজারল্যান্ডের এক কূটনীতিবিদ এই নাম দেন, কারণ এখানকার প্রাকৃতিক দৃশ্যের সঙ্গে সুইস গ্রামাঞ্চলের আশ্চর্য মিল রয়েছে।
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২,০০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত খাজ্জিয়ার প্রকৃতিপ্রেমী, ফটোগ্রাফার এবং অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। বিস্তীর্ণ সবুজ প্রান্তর, চারপাশে দেবদারু বন এবং মাঝখানে শান্ত খাজ্জিয়ার লেক এই স্থানকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
খাজ্জিয়ারের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ খাজ্জিয়ার লেক। সবুজ ঘাসে ঘেরা এই মনোরম হ্রদের মাঝখানে রয়েছে একটি ভাসমান ঘাসের দ্বীপ, যা পর্যটকদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করে। এখানে ঘোড়ায় চড়া, জোর্বিং এবং প্রকৃতির মাঝে নিরিবিলি সময় কাটানোর সুযোগ রয়েছে। এছাড়াও দ্বাদশ শতকে নির্মিত ঐতিহাসিক খাজ্জি নাগ মন্দির দর্শনার্থীদের অন্যতম আকর্ষণ। কাঠের সূক্ষ্ম কারুকাজ এবং হিন্দু-মুসলিম স্থাপত্যশৈলীর অনন্য মিশ্রণ এই মন্দিরকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে।
খাজ্জিয়ারে পৌঁছানোর জন্য নিকটতম রেলস্টেশন পাঠানকোট, যা প্রায় ১২০ কিলোমিটার দূরে। সড়কপথে ডালহৌসি থেকে মাত্র ২২ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত এই পর্যটন কেন্দ্র। ডালহৌসি থেকে সহজেই ট্যাক্সি ও বাসে পৌঁছে যাওয়া যায়।
মার্চ থেকে জুন মাস খাজ্জিয়ার ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। তবে তুষারপাত উপভোগ করতে চাইলে ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যে যাওয়াই ভালো। বর্ষাকালে এখানকার প্রকৃতি আরও সবুজ হয়ে ওঠে, যদিও সে সময় ভূমিধসের ঝুঁকি থাকতে পারে।
খাজ্জিয়ার ভ্রমণের আনুমানিক বাজেট জনপ্রতি ১০ হাজার থেকে ১৮ হাজার টাকার মধ্যে হতে পারে। এতে যাতায়াত, হোটেল, খাবার এবং স্থানীয় দর্শন ও অ্যাডভেঞ্চার কার্যক্রমের খরচ অন্তর্ভুক্ত। পাহাড়, প্রকৃতি ও নিরিবিলি পরিবেশের সঙ্গে স্মরণীয় ভ্রমণের অভিজ্ঞতা পেতে চাইলে খাজ্জিয়ার নিঃসন্দেহে হতে পারে আপনার পরবর্তী গন্তব্য।




















