বীরভূম:
বেআইনি পাথর ব্যবসা ও রাজস্ব ফাঁকির তদন্তে বড় সাফল্য পেল বীরভূম পুলিশ। পলাতক পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ ও তাঁর ম্যানেজার সীতেশ প্রামাণিককে গ্রেফতারের পর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথি, একটি গোপন ডায়েরি এবং ভুয়ো ডিসিআর বা ডুপ্লিকেট কার্বন রিসিট ছাপানোর অত্যাধুনিক যন্ত্র উদ্ধার হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, এই সমস্ত তথ্য তদন্তে নতুন দিশা দেখাতে পারে।
পুলিশ জানিয়েছে, টুলু মণ্ডলের তুতো ভগ্নিপতি মিনার মণ্ডলকে গ্রেফতারের পর তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র মিলেছিল। সেই সূত্র ধরেই রবিবার রাতে সিউড়ি এলাকা থেকে সীতেশ প্রামাণিককে গ্রেফতার করা হয়। সোমবার তাঁকে সিউড়ি জেলা আদালতে পেশ করা হলে আদালত সাত দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেয়।
তদন্তে উদ্ধার হওয়া গোপন ডায়েরিতে পুলিশ ও প্রশাসনের একাধিক উচ্চপদস্থ আধিকারিকের নাম লেখা রয়েছে বলে আদালতে জানিয়েছেন সরকারি আইনজীবী। তবে ওই নামগুলি কী কারণে নথিভুক্ত ছিল এবং তার সঙ্গে মামলার কী সম্পর্ক রয়েছে, তা এখনও তদন্তাধীন। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, বেআইনি পাথর ব্যবসা ও রাজস্ব ফাঁকির সঙ্গে আর কারা জড়িত থাকতে পারেন এবং কোনও আর্থিক লেনদেনের যোগসূত্র রয়েছে কি না।
একই সঙ্গে পুলিশ ভুয়ো ডিসিআর ছাপানোর একটি অত্যাধুনিক যন্ত্রও বাজেয়াপ্ত করেছে। গত ২৪ জুলাই মহম্মদবাজার এলাকায় একটি পাথর বোঝাই ডাম্পারের চালান যাচাই করতে গিয়ে ডিসিআরের নম্বর সরকারি নথির সঙ্গে মিল না থাকায় জালিয়াতির বিষয়টি সামনে আসে। সেই ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার তদন্তে নেমেই এই উদ্ধার বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বীরভূমের পুলিশ সুপার বিদিত রাজ বুন্দেশ জানিয়েছেন, এই মামলায় টুলু মণ্ডলের সঙ্গে যুক্ত প্রায় ২২০ কোটি টাকার সম্পত্তি ইতিমধ্যেই ফ্রিজ বা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। পলাতক টুলু মণ্ডলের খোঁজে তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে এবং তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে আরও পদক্ষেপ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।




















