দিল্লি – সুপ্রিম কোর্টের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা শেষ হতে আর বেশি দেরি নেই। অথচ বাংলায় শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ার জট এখনও কাটেনি। ৩১ অগস্টের নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে শিক্ষক নিয়োগের গোটা প্রক্রিয়া শেষ করা যে কার্যত অসম্ভব, এবার তা মেনে নিল রাজ্য স্কুল সার্ভিস কমিশন বা এসএসসি। ওবিসি সংরক্ষণ সংক্রান্ত জটিলতায় আটকে থাকা নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে ফের দেশের শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হতে চলেছে কমিশন।
তবে এবার কয়েক দিন বা অল্প সময় নয়, নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার জন্য সুপ্রিম কোর্টের কাছে অনেকটা অতিরিক্ত সময় চাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে এসএসসি। কমিশন সূত্রে খবর, এ বিষয়ে যাবতীয় সিদ্ধান্ত ইতিমধ্যেই চূড়ান্ত হয়েছে। দ্রুত আদালতে আবেদন জানানোর জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক নথিপত্রও প্রস্তুত করা হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করার জন্য ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার ঠিক আগে কমিশনের আবেদনের ভিত্তিতে মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৬ সালের ৩১ অগস্ট করা হয়। সেই সময়সীমাও এবার কার্যত শেষের মুখে। কিন্তু নিয়োগ প্রক্রিয়ায় একের পর এক জটিলতা তৈরি হওয়ায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানাচ্ছে কমিশন।
২০১৬ থেকে ২০২৬—এক দশকে রাজ্যে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া ক্রমশ জটিল হয়েছে। নিয়োগে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির অভিযোগের প্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের এপ্রিলে ২০১৬ সালের গোটা এসএসসি প্যানেল বাতিল ঘোষণা করে সুপ্রিম কোর্ট। এর ফলে প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী চাকরি হারান। একইসঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছিল, যোগ্য প্রার্থীরা ৩১ অগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত সবেতন কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন এবং তার মধ্যে রাজ্যকে সম্পূর্ণ নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে।
কিন্তু পরবর্তীতে ওবিসি সংরক্ষণ নিয়ে তৈরি হওয়া আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতায় নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়াতেও বাধা তৈরি হয়। ফলে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে নিয়োগ সম্পূর্ণ করা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এখন এসএসসির আবেদন এবং সুপ্রিম কোর্ট সেই আবেদনে কী সিদ্ধান্ত নেয়, তার উপরই নির্ভর করছে রাজ্যের শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ার পরবর্তী গতিপথ।




















