কলকাতা: সার্ভিস কোটায় এসএসকেএম হাসপাতালে স্নাতকোত্তর পড়ার সুযোগ পাওয়া চিকিৎসক অভীক দে-কে ঘিরে তদন্তে একাধিক গুরুতর প্রশ্ন সামনে এসেছে। চার সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রায় ১৫০ পাতার রিপোর্টে তাঁর সার্ভিস কোটায় ভর্তি নিয়ে অসঙ্গতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে বলে স্বাস্থ্য ভবন সূত্রে খবর। কমিটি অভীক দে-র বিরুদ্ধে বিভাগীয় পদক্ষেপের পাশাপাশি তাঁকে সার্ভিস কোটার সুবিধা পেতে সাহায্য করা স্বাস্থ্য দফতরের একাধিক আধিকারিকের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে।
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, গ্রামীণ বা দুর্গম এলাকায় নির্দিষ্ট সময় কাজ করা চিকিৎসকেরা স্নাতকোত্তর কোর্সে ভর্তির ক্ষেত্রে সার্ভিস কোটার সুবিধা পেতে পারেন। অভীক দে দাবি করেছিলেন, ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর থেকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের অধীন অনাময় হাসপাতালে তিনি কাজ করেছিলেন। কিন্তু তদন্তে তাঁর ওই কর্মকাল নিয়ে একাধিক অসঙ্গতি উঠে এসেছে বলে রিপোর্ট সূত্রে জানা গিয়েছে। অনাময় হাসপাতালের সুপার, রেডিয়োডায়াগনসিস বিভাগের কর্মী এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীরা তদন্তকারীদের জানিয়েছেন, তাঁকে সেখানে কাজ করতে দেখেননি। তাঁর যোগদানের নথি এবং হাজিরার তথ্য নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, অভীক দে-র কাজের স্বপক্ষে একাধিক শংসাপত্র দেওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট কয়েক জন প্রাক্তন আধিকারিক তদন্তকারীদের জানিয়েছেন, তিনি আদৌ সেখানে কাজ করেছিলেন কি না, সে বিষয়ে তাঁদের প্রত্যক্ষ ধারণা ছিল না। এমনকি তাঁর অনাময় হাসপাতালে বদলির নির্দেশ জারির তারিখ এবং তিনি যে সময় থেকে সেখানে কাজ করার দাবি করেছেন, সেই দু’টি সময়ের মধ্যেও অসঙ্গতি রয়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
সার্ভিস কোটায় স্নাতকোত্তরে ভর্তির জন্য প্রয়োজনীয় ‘ট্রেনি রিজার্ভ অর্ডার’ এবং ভিজিল্যান্সের অনুমোদন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তদন্ত কমিটির রিপোর্টে অভীক দে-র ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছিল না বলে উল্লেখ করা হয়েছে বলে সূত্রের দাবি। এই পরিস্থিতিতে তাঁর সার্ভিস কোটা বাতিল করে ভর্তি নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকর্তাদের বিরুদ্ধেও পদক্ষেপের সুপারিশ করেছে কমিটি।



















