কলকাতা
উত্তর কলকাতার কাশীপুর-বেলগাছিয়া এলাকায় ডেঙ্গি পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে ৬ নম্বর ওয়ার্ড-সহ বি টি রোড সংলগ্ন একাধিক এলাকা ডেঙ্গির হটস্পট হিসেবে উঠে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের মধ্যে জ্বর ও ডেঙ্গি নিয়ে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে পুরসভার নাগরিক পরিষেবা নিয়ে সরব হয়েছেন কাশীপুর-বেলগাছিয়ার বিজেপি বিধায়ক রীতেশ তিওয়ারি। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এলাকার জল জমা, নোংরা-আবর্জনা এবং মশার লার্ভা নিয়ে পুরসভাকে জানানো হলেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হয়নি। বিধায়কের দাবি, জুন মাস থেকেই ৩০টিরও বেশি পুকুর ও ডোবা পরিষ্কারের জন্য তিনি পুরসভাকে লিখিতভাবে জানিয়েছিলেন।
রীতেশের আরও অভিযোগ, পুরসভার পরিবেশ ও নিকাশি দফতরের আধিকারিকদের সঙ্গেও একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও পরিস্থিতির যথেষ্ট উন্নতি হয়নি। ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া এবং মৃত্যুর ঘটনাগুলির পরেও প্রশাসনের তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, নিচুতলার কর্মীদের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে এলাকার বাস্তব পরিস্থিতির ফারাক রয়েছে।
পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল সম্প্রতি কাশীপুর এলাকায় ডেঙ্গি সচেতনতা কর্মসূচিতে গিয়েছিলেন। সেই পরিদর্শন নিয়েও অভিযোগ করেছেন রীতেশ। তাঁর দাবি, মন্ত্রীকে এলাকার সবচেয়ে সমস্যাগ্রস্ত অংশে না নিয়ে তুলনামূলক পরিষ্কার একটি জায়গা ঘুরিয়ে দেখানো হয়েছিল। যদিও অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়েছেন, পুর আধিকারিকরা যে এলাকাটিকে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত বলে জানিয়েছিলেন, সেখানেই তিনি গিয়েছিলেন। রীতেশ যে নির্দিষ্ট এলাকার কথা বলছেন, প্রয়োজনে সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি দেখবেন বলেও জানান তিনি।
পুরসভার তথ্য অনুযায়ী, ৬ নম্বর ওয়ার্ডে চলতি বছরে ৫৪টি ডেঙ্গি আক্রান্তের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছিল, যা ওই সময় পর্যন্ত কলকাতার ওয়ার্ডগুলির মধ্যে সর্বাধিক। ডেঙ্গি নিয়ন্ত্রণে জমা জল পরিষ্কার রাখা এবং জ্বর হলে দ্রুত পরীক্ষা করানোর উপর জোর দিয়েছে পুর প্রশাসন।
তবে ডেঙ্গি পরিস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোরের মধ্যেই উত্তর কলকাতার এই এলাকায় মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে পুরসভার নজরদারি ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ আরও জোরদার করার দাবি উঠছে।




















