কলকাতা:
দুর্গাপুজোর প্রস্তুতিতে কোনও রকম ঢিলেমি বরদাস্ত করা হবে না। রাস্তা মেরামতি, পথবাতি, সাফাই অভিযান থেকে শুরু করে পুরকর্মীদের বেতন মেটানো—প্রতিটি ক্ষেত্রেই নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়ে রাজ্যের সমস্ত পুরসভা ও উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার, ৯ অক্টোবর বিকেল ৫টায় নগরোন্নয়ন ও পুর বিষয়ক দফতরের অধীন বিভিন্ন সংস্থার প্রস্তুতি পর্যালোচনা করেন তিনি। পুজোর আগে নাগরিক পরিষেবা স্বাভাবিক রাখা এবং পুর এলাকাগুলিকে পরিচ্ছন্ন রাখার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনিক নির্দেশ অনুযায়ী, পুজো মণ্ডপে যাতায়াতের রাস্তাগুলির বাকি মেরামতির কাজ আগামী তিন দিনের মধ্যে শেষ করতে হবে। দ্রুত কাজ সম্পন্ন করার জন্য অর্থ দফতর স্বল্পমেয়াদি দরপত্রে অনুমোদন দিয়েছে। অন্যদিকে, জরুরি ভিত্তিতে পথবাতি বদলের কাজ শেষ করার সময়সীমা ধার্য করা হয়েছে ১৩ অক্টোবর। পুজোর সময় যাতে দর্শনার্থীদের যাতায়াতে কোনও অসুবিধা না হয়, সেই লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ।
শহর ও পুর এলাকাগুলিকে পরিচ্ছন্ন রাখতে বিশেষ সাফাই অভিযান চালানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। ডাম্পিং গ্রাউন্ডে জমে থাকা আবর্জনা সরানোর পাশাপাশি ই-রিকশায় বিভিন্ন এলাকা ঘুরে নোংরা জায়গা চিহ্নিত করতে হবে। এরপর দ্রুত সেই জায়গাগুলি পরিষ্কার করার ব্যবস্থা করতে হবে। পুজোর দিনগুলিতে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে পুরসভাগুলিকে সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পুজোর প্রস্তুতির পাশাপাশি পুরসভা ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির আর্থিক বিষয়েও একাধিক নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য সরকার। আগামী ১৪ অক্টোবরের মধ্যে কর্মীদের বেতন মিটিয়ে দিতে হবে। চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের বেতন বকেয়া রাখা চলবে না। পাশাপাশি তাঁদের সামান্য বোনাস দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করতে বলা হয়েছে।
এছাড়াও ব্লিচিং পাউডার-সহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর বকেয়া বিলের অন্তত ৩০ শতাংশ মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ‘আমার পাড়া আমার সমাধান’ প্রকল্পের আওতায় যেসব জায়গায় কাজ শেষ হয়েছে, সেখানেও দ্রুত পাওনা মেটাতে হবে। সব মিলিয়ে, দুর্গাপুজোর আগে নাগরিক পরিষেবা, পরিচ্ছন্নতা এবং পুরকর্মীদের আর্থিক বিষয়গুলি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতেই প্রশাসনকে তৎপর হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।




















