লিসবন: কেরিয়ারে ৯৮০ গোলের বিরল মাইলফলক ছোঁয়ার পরেই বড় ধাক্কা ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর। জাতীয় দলের শিবির ছেড়ে চলে যাওয়ার ঘটনায় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে তাঁকে সাময়িকভাবে সাসপেন্ড করেছে পর্তুগাল ফুটবল ফেডারেশন। গত ৯ অক্টোবর তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়। আপাতত শাস্তির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হলেও, এই ঘটনায় রোনাল্ডোর জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে।
পর্তুগাল ফুটবল ফেডারেশনের বিবৃতি অনুযায়ী, গত ৭ অক্টোবরের ঘটনা খতিয়ে দেখতে শৃঙ্খলাভঙ্গের তদন্ত শুরু করা হয়েছে। মামলাটিকে জরুরি ভিত্তিতে বিবেচনা করা হচ্ছে এবং তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে শৃঙ্খলাগত তদন্ত কমিটিকে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে না বলেও জানিয়েছে ফেডারেশন।
পর্তুগালের কোচ জর্জে জেসুসের সঙ্গে মতবিরোধের জেরেই জাতীয় দলের শিবির ছেড়েছিলেন রোনাল্ডো বলে জানা গিয়েছে। নরওয়ের বিরুদ্ধে ম্যাচে তাঁকে মাঠে নামানো হয়নি। রোনাল্ডোর দাবি, তাঁকে ৩০ মিনিট খেলানোর আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি রাখা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। এরপরই দলের শিবির ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন পর্তুগিজ তারকা। যদিও কোচ জর্জে জেসুসের সঙ্গে এই বিরোধ নিয়ে দু’পক্ষের বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে।
ঘটনার পর অবশ্য নিজের আচরণের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন রোনাল্ডো। একই সঙ্গে জানিয়েছেন, তাঁর পদমর্যাদা বা পরিচয় যা-ই হোক না কেন, নিয়ম সবার জন্য সমান এবং নিজের কাজের জন্য শাস্তি পেতেও তিনি প্রস্তুত। পর্তুগাল ফুটবল ফেডারেশনের নিয়ম অনুযায়ী, যথাযথ কারণ ছাড়া জাতীয় দলের শিবির বা নির্ধারিত কার্যক্রম ছেড়ে গেলে এক থেকে ছয় মাস পর্যন্ত নির্বাসনের মুখে পড়তে পারেন কোনও ফুটবলার। তবে রোনাল্ডোর ক্ষেত্রে চূড়ান্ত শাস্তি এখনও ঘোষণা করা হয়নি।
কেরিয়ারে ১,০০০ গোলের ঐতিহাসিক মাইলফলকের দিকে এগিয়ে চলেছেন রোনাল্ডো। কিন্তু জাতীয় দলের হয়ে আগামী ম্যাচগুলিতে তাঁর অংশগ্রহণ নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। তদন্তের ফল এবং চূড়ান্ত শাস্তির উপরই নির্ভর করছে পর্তুগালের জার্সিতে তাঁর পরবর্তী অধ্যায় কতটা নির্বিঘ্ন হবে।




















