উত্তর ২৪ পরগনা:
অন্নপূর্ণা যোজনার আর্থিক সহায়তা দিয়েই দুর্গাপুজোর আয়োজন করলেন সুন্দরবন লাগোয়া দুই গ্রামের মহিলারা। উত্তর ২৪ পরগনার মিনাখাঁর চাপালি এবং হিঙ্গলগঞ্জের দুলদুলি পূর্বপাড়ায় মহিলাদের এই উদ্যোগ ঘিরে উৎসাহ তৈরি হয়েছে। নিজেদের এক মাসের ভাতার টাকা একত্র করে মা দুর্গার আরাধনার ব্যবস্থা করেছেন তাঁরা। তাঁদের এই উদ্যোগে একদিকে যেমন গ্রামে পুজোর আনন্দ ছড়িয়েছে, তেমনই সামনে এসেছে মহিলাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ছবি।
রাজ্য সরকারের অন্নপূর্ণা যোজনার আওতায় মহিলাদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। সেই অর্থ থেকেই দুর্গাপুজোর আয়োজন করার সিদ্ধান্ত নেন চাপালি ও দুলদুলি পূর্বপাড়ার মহিলারা। ব্যক্তিগত প্রয়োজনের পাশাপাশি নিজেদের গ্রামের পুজোর জন্যও এই অর্থ কাজে লাগানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা। তাঁদের উদ্যোগে এখন দুই গ্রামেই চলছে পুজোর শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।
উত্তর ২৪ পরগনার চাপালি গ্রামের বহু বাসিন্দার জীবিকা চাষবাস ও ভেড়ির কাজের উপর নির্ভরশীল। প্রত্যন্ত এই গ্রামে আগে কখনও দুর্গাপুজোর আয়োজন হয়নি বলে স্থানীয় সূত্রে দাবি। এবার গ্রামের মহিলারাই পুজোর দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে তুলে নিয়েছেন। অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা একত্র করে তাঁদের এই উদ্যোগে নতুন করে দুর্গোৎসবের আনন্দ আসতে চলেছে গ্রামে।
অন্যদিকে, হিঙ্গলগঞ্জের দুলদুলি পূর্বপাড়াতেও একই ছবি। স্থানীয় মহিলাদের উদ্যোগে গত দু’বছর আশপাশের মানুষের কাছ থেকে চাঁদা সংগ্রহ করে কোনও রকমে দুর্গাপুজোর আয়োজন করা হয়েছিল। এবার অন্নপূর্ণা যোজনার অর্থ একত্র করে পুজোর আয়োজন করায় প্রস্তুতি আরও পরিকল্পিতভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারছেন তাঁরা।
দুই গ্রামের মহিলাদের এই উদ্যোগে উঠে এসেছে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্মিলিতভাবে কাজ করার দৃষ্টান্ত। নিজেদের প্রাপ্ত আর্থিক সহায়তার একটি অংশ গ্রামের উৎসবের জন্য কাজে লাগিয়ে তাঁরা দুর্গাপুজোকে ঘিরে তৈরি করেছেন নতুন উদ্দীপনা। পুজোর ক’টা দিন গ্রামের মানুষ একসঙ্গে আনন্দে মেতে উঠবেন—এই আশাতেই এখন দিন গুনছেন উদ্যোক্তারা।




















