জরুরি অবস্থার পর নাগরিক অধিকার নিয়ে এমন মামলা কবে হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টে প্রশ্ন মানেকা গুরুস্বামীর

জরুরি অবস্থার পর নাগরিক অধিকার নিয়ে এমন মামলা কবে হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টে প্রশ্ন মানেকা গুরুস্বামীর

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram



নয়াদিল্লি:

দেশে জরুরি অবস্থার পর নাগরিকদের মৌলিক অধিকার খর্ব হওয়ার অভিযোগে এমন মামলা সুপ্রিম কোর্টে শেষ কবে উঠেছিল, তা মনে করতে পারছেন না বলে মন্তব্য করলেন প্রবীণ আইনজীবী মানেকা গুরুস্বামী। দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে ধরপাকড়, ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ এবং মেট্রো স্টেশনে বিধিনিষেধের অভিযোগ নিয়ে রবিবার বিশেষ শুনানিতে তিনি বলেন, প্রায় ৫০ বছর আগে জরুরি অবস্থার সময় এই ধরনের মামলার শুনানি হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য, এই মামলা শুধু কয়েক জন রাজনৈতিক নেতা বা সাংসদের মুক্তির প্রশ্ন নয়, বরং সংবিধান প্রদত্ত অধিকার রক্ষার লড়াই।

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে শনিবার যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র ডাকে প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল। সেই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে শুক্রবার রাত থেকেই রাজধানীতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে পুলিশ। অভিযোগ, একাধিক এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয় এবং মেট্রো ও বাস চলাচলের ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি করা হয়। এর ফলে সাধারণ যাত্রীদের একাংশকে সমস্যায় পড়তে হয় বলে অভিযোগ ওঠে।

রবিবারের শুনানিতে মানেকা গুরুস্বামী আদালতকে জানান, মামলাটি দায়েরের সময় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ থাকায় কত জন রাজনৈতিক নেতা, সাংবাদিক, আইনজীবী এবং সাধারণ নাগরিককে আটক করা হয়েছে, তার সঠিক হিসাব সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। তাঁর বক্তব্য, যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ থাকায় পরিস্থিতির পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল।

মামলার গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে গুরুস্বামী বলেন, এটি কোনও এক জন রাজনৈতিক নেতা, ১০ জন সাংসদ কিংবা তিন জন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর মুক্তির বিষয় নয়। তাঁর কথায়, এটি সংবিধান প্রদত্ত স্বাধীনতা ও অধিকার রক্ষার প্রশ্নে একটি ‘হেবিয়াস কর্পাস’ মামলা। বেআইনিভাবে কাউকে আটক রাখা হয়েছে কি না, তা বিচারবিভাগীয়ভাবে খতিয়ে দেখার জন্যই এই ধরনের মামলা করা হয়।

নাগরিক স্বাধীনতা, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার নামে প্রশাসনিক বিধিনিষেধের সীমা—এই তিনটি বিষয়কে কেন্দ্র করেই শুনানিতে প্রশ্ন ওঠে। মামলার মাধ্যমে আটক ব্যক্তিদের পরিস্থিতি এবং তাঁদের অধিকার সংক্রান্ত অভিযোগগুলি আদালতের সামনে তুলে ধরা হয়েছে। এখন এই বিষয়ে শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশের দিকে নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলের।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top