নয়াদিল্লি:
দিল্লিতে সাধারণ মানুষের অবাধ যাতায়াত নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। CJP-র বিক্ষোভ ঘিরে রাজধানীতে জারি হওয়া কড়াকড়ি এবং গণপরিবহণে বিধিনিষেধ নিয়ে একাধিক অভিযোগের প্রেক্ষিতে আদালত জানিয়েছে, জনসাধারণের চলাচলে অপ্রয়োজনীয় বাধা সৃষ্টি করা যাবে না। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা মাথায় রেখেই বিধিনিষেধ আরোপ করতে হবে।
শীর্ষ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, অপ্রয়োজনীয় ব্যারিকেড সরিয়ে সাধারণ মানুষের যাতায়াত সহজ করতে হবে। মেট্রো ও রেল পরিষেবা সম্পূর্ণ বন্ধ না রেখে পরিস্থিতি অনুযায়ী নিয়ন্ত্রিতভাবে চালানোর উপরও জোর দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি ইন্টারনেট পরিষেবা পুনরায় চালু করা এবং আদালতে যাতায়াতকারী আইনজীবীদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে যাতে কোনও বাধা না আসে, তা নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।
শনিবার দিল্লির যন্তর মন্তরে CJP-র প্রস্তাবিত বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজধানীর একাধিক এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছিল। বিক্ষোভের জেরে মেট্রো পরিষেবা, রেল চলাচল এবং ইন্টারনেট ব্যবহারে বিধিনিষেধ নিয়ে সাধারণ মানুষের অসুবিধার অভিযোগ ওঠে। এই পরিস্থিতিতে জনজীবনে অযথা বিঘ্ন না ঘটিয়ে কীভাবে নিরাপত্তা বজায় রাখা যায়, তা নিয়ে আদালতে প্রশ্ন ওঠে।
শুনানিতে প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিবাল-সহ কয়েক জন আইনজীবী গণপরিবহণে বিধিনিষেধের বিষয়টি আদালতের নজরে আনেন। তাঁদের বক্তব্য ছিল, রাজধানীতে চলাচলে ব্যাপক বাধা তৈরি হওয়ায় সাধারণ মানুষ এবং আইনজীবীদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দিল্লিগামী ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রাখার দাবিও ওঠে। পাশাপাশি যন্তর মন্তরের চার কিলোমিটার ব্যাসার্ধের বাইরে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারায় জারি করা নিষেধাজ্ঞা নিয়েও আপত্তি জানানো হয়।
আদালত অবশ্য শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার এবং জনশৃঙ্খলা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার মধ্যে ভারসাম্য রাখার উপর জোর দিয়েছে। বিক্ষোভের অনুমতি ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিধিনিষেধ আইন মেনেই নির্ধারণ করতে হবে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন যাতে অকারণে ব্যাহত না হয়, সে বিষয়েও প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে হবে।




















