স্থান: কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ | স্বাস্থ্য ও রাজনীতি
কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতির পুজো মণ্ডপে পদপিষ্টের মর্মান্তিক ঘটনায় ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। দুর্ঘটনায় আহতদের প্রথমে সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও পরে তাঁদের কয়েকজনকে নামী বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। কেন আহতদের বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানো হল, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। এবার সেই বিতর্কে মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
দশমীর সকালে স্বাস্থ্যভবনের কন্ট্রোল রুমে উপস্থিত হয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, আহতদের সর্বোত্তম চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়াই ছিল সরকারের লক্ষ্য। সরকারি হাসপাতালগুলির পরিষেবা নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি বলেন, সেখানে ব্যর্থতা নয়, বরং কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তবে কোনও নির্দিষ্ট বেসরকারি হাসপাতালের নাম উল্লেখ করে তার প্রচার করতে চান না বলেও স্পষ্ট করেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, আহতদের চিকিৎসার জন্য বেসরকারি হাসপাতালগুলির তরফে কোনও টাকা চাওয়া হয়নি। বরং সরকারই মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী বিল পাঠানোর কথা বলেছিল। তাঁর বক্তব্য, আহতদের দ্রুত এবং উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করাই ছিল এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য।
ডিউটি ছেড়ে বিবৃতি দেওয়া চিকিৎসকদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন
এদিন কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের কয়েকজন চিকিৎসকের ভূমিকা নিয়েও মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, ওই সময় ডিউটিতে থাকা কিছু চিকিৎসক দায়িত্ব ছেড়ে রাজনৈতিক নেতাদের মতো বিবৃতি দিয়েছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তাঁদের ছবি চিহ্নিত করে রাখার জন্য স্বাস্থ্যসচিব ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের ওই সময় ডিউটি ছিল কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন। ডিউটি চলাকালীন দায়িত্ব ছেড়ে এভাবে বিবৃতি দেওয়া হলে তা পরিষেবার নিয়মের পরিপন্থী কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান তিনি।
তাঁর বক্তব্য, স্বাস্থ্য পরিষেবা একটি জরুরি পরিষেবা। এই ক্ষেত্রে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির পাশাপাশি দায়বদ্ধতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে যে চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া সম্ভব ছিল, তার থেকেও উন্নত পরিষেবা বেসরকারি হাসপাতালে পাওয়া যেতে পারে বলেই আহতদের সেখানে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী আরও দাবি করেন, চিকিৎসা শুরু হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ২৫ জন আহতের মধ্যে কারও মৃত্যু হয়নি। আহতদের চিকিৎসা এবং তাঁদের দ্রুত সুস্থ করে তোলার বিষয়টিকেই সরকার অগ্রাধিকার দিয়েছিল বলে জানান তিনি।




















