কলকাতা —
বাবা-মায়ের ইগোর লড়াইয়ের মাশুল গুনতে হয় সন্তানদের। একে অপরকে সামান্য ছাড় দিতেও রাজি নন বাবা-মা, অথচ তাঁদের দ্বন্দ্বের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ে সন্তানের উপর। এক নাবালিকা কন্যার হেফাজত সংক্রান্ত মামলায় এমনই তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করল কলকাতা হাই কোর্ট। বিচারপতি অরিন্দম মুখোপাধ্যায়ের মন্তব্য, বাবা-মায়ের এই সংঘাতের মধ্যে সন্তানের ক্ষতির বিষয়টি অনেক সময় তাঁরা বুঝতে পারেন না।
মামলায় বাবার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত নির্দেশ দিয়েছে, আগামী সোমবার সকাল ৯টা থেকে বুধবার সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত নাবালিকা কন্যা বাবার সঙ্গেই থাকবে। অর্থাৎ, দীপাবলির ছুটিতে বাবার সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ পাবে ওই শিশু।
জানা গিয়েছে, বেলেঘাটার বাসিন্দা চিকিৎসক মা এবং পূর্ব বর্ধমানের বাসিন্দা চিকিৎসক বাবার মধ্যে বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে গিয়েছে। আইন অনুযায়ী, বর্তমানে নাবালিকা কন্যা মায়ের হেফাজতেই রয়েছে। বিধাননগরের একটি স্কুলে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়াশোনা করে সে।
দীপাবলির ছুটিতে কয়েক দিন মেয়ের সঙ্গে সময় কাটাতে চেয়ে প্রথমে নিম্ন আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন বাবা। কিন্তু তাঁর আবেদন খারিজ হয়ে যায়। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করেই হাই কোর্টে মামলা করেন তিনি। সেই মামলার শুনানিতেই বাবার আবেদনে সাড়া দিয়ে মেয়েকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য তাঁর সঙ্গে থাকার অনুমতি দিয়েছে আদালত।
শুনানিতে মায়ের আইনজীবী জানান, তাঁদের বাড়িতে কালীপুজো হয়। তাই ওই সময় মেয়েকে বাবার হেফাজতে দেওয়া সম্ভব নয়। পরিবর্তে শীতের ছুটিতে তিন দিন মেয়েকে বাবার কাছে পাঠানোর প্রস্তাব দেন তিনি। তবে বাবার আইনজীবী সেই প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করেন। তাঁর বক্তব্য, বাবাও মেয়ের সঙ্গে সময় কাটাতে চান। শেষ পর্যন্ত দীপাবলির ছুটিতেই বাবার সঙ্গে থাকার অনুমতি দিল হাই কোর্ট।




















