
নিজস্ব সংবাদদাতা, পূর্ব মেদিনীপুর, ৪ এপ্রিল, লকডাউনের জেরে ক্ষতির মুখে পূর্ব মেদিনীপুরের পানচাষে।এই বন্ধের বাজারে অনান্য খাদ্য কৃষিজাত দ্রব্য বাজারে বিক্রির নিষেধাজ্ঞা না থাকলেও গুল্ম জাতীয় শস্য পানের ক্ষেত্রে তা হচ্ছেনা। সমস্যায় যেমন পান চাষিরা তেমনি পান প্রিয় মানুষরা।
লকডাউন প্রায় এক সপ্তাহ হয়ে গেল, আরো কত দিন থাকবে সে বিষয়ের ও কোনো নিশ্চয়তা নেই। তাই আতঙ্কের প্রহর গুনছে পূর্ব মেদিনীপুরের কয়েক হাজার পানচাষি।মূলত পানের যোগানের প্রায় ৯০% এই জেলাতে হয়।এই পান রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি ভিন রাজ্য ও ভিন দেশে ও রপ্তানি করা হয়।লকডাউনের ফলে জেলার সমস্ত পান মন্ডি বন্ধ। চাষীরা তাদের পান পাঠাতে পারছেনা।তাই গাছেই পাতা নষ্ট হচ্ছে।অনেক চাষি আবার গাছ বাঁচাতে পাতা তুলে ফেলে দিচ্ছে।অনেকে আবার পাতা তুলে ঘরের মধ্যে সাজিয়ে বোতলে ঠান্ডা জল রেখে কিছুটা সতেজ রাখার চেষ্টা করছে, কারন লকডাউন উঠলে যদি ঐ গুলে বাজারে পাঠানো যায়, তাহলে হয়ত কিছু পয়সা পাওয়া যাবে!
সবথেকে বড় সমস্যা বেশিরভাগ চাষি গাছে পান পাতা রেখে দেয় মার্চ ও এপ্রিল মাস বাজারে বিক্রি করার জন্য।কারন এই সময় ই পানের দাম আকাশ ছোঁয়া হয়।এই দুই মাসের পান বিক্রির টাকা দিয়ে তার সংসারে আভিজাত্য আনার স্বপ্ন দেখে।তার ফলেই মাথায় হাত চাষিদের। কি হবে? কি করে সংসার চলবে এই চিন্তাতেই তাদের কপালে ভাঁজ। বেশির ভাগ চাষিই বিভিন্ন ব্যাঙ্ক থেকে লোন নিয়ে পান চাষ করে।পান বিক্রি করতে পারছে না লোন মেটাবে কি করে? লকডাউন যত দীর্ঘ হবে চিন্তা আরও ওদের গ্রাস করবে।করোনা আতঙ্কের থেকেও লকডাউন আতঙ্ক যেন ওদের তাড়া করছে বেশি।



















