
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা, ২৫ এপ্রিল, করোনা সংক্রমণে গোটা দেশ জর্জরিত।সংক্রমণ রুখতে দেশজুড়ে চলছে লকডাউন।এরূপ অবস্থাতে গৃহবন্দী বহু মানুষ।কিছু মানুষ গৃহে থেকেই কাজ করে চলেছেন আবার কিছু মানুষ গান, কবিতা, আঁকা, রান্না প্রভিতির দ্বারা সময় কাটাচ্ছেন।সচেতন মানুষ এটা জানে দেশ ও নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে নিজেদের গৃহে বন্দি রাখা কতটা জরুরি।কিন্তু এই পরিস্থিতি কতটা স্বাভাবিকভাবে মেনে নিতে পারছে স্পেশাল চাইল্ডরা? তাই ভাববার বিষয়! অন্যান্য সময় তারা তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বা সেন্টারে তাদের মতো আর পাঁচটা বন্ধুর সঙ্গে সময় কাটান।কিন্তু এখন তাঁরা ঘরে বন্দি।তাই এবার লকডাউনে এই স্পেশাল সন্তানগুলোর জন্য এক অভিনব প্রতিযোগিতার আয়োজন করল এনজিও ‘সংবেদন’।

ভিন্ন ভাবে সক্ষম ছাত্র ছাত্রীরা যাতে লকডাউন সমস্যাকে কাটিয়ে উঠতে পারে এবং তাদের প্রতিভা মানুষের সামনে নিয়ে আসা যায় তার জন্য এই প্রয়াস এনজিও ‘সংবেদন’-এর সম্পাদক সামিত সাহা’র।সকল প্রতিবন্ধী ছাত্র ছাত্রীরা তাদের নিজস্ব প্রতিভা রেকর্ড করে নিজের ঘরে বসে পাঠান, এবং সেখান থেকে বেছে নেওয়া হবে কিছু জনকে সেকেন্ড রাউন্ডের জন্য।ইতিমধ্যে ২২ ও ২৩ এপ্রিল প্রথম রাউন্ড সম্পন্ন হয়।

লকডাউনে এই প্রতিবন্ধী বাচ্চাদের পরিবার থেকে নানান অভিযোগ উঠে আসছে।কোথাও কেউ বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়ছে, কেউ অভিভাবকদের একদম অবাধ্য হয়ে উঠেছে, কেউ বাড়িতে অশান্তি করে হাত-পা ভাঙছে, আবার কেউ রাগ সামলাতে না পেরে বাবা-মায়ের উপর চড়াও হচ্ছে।এর জেরে বাবা-মা’র পক্ষে তাদের সামলানো কঠিন হয়ে পড়ছে।এই লকডাউন কিছু মানুষের জীবনে কষ্টের পাশাপাশি হতাশা ডেকে এনেছে।বিশেষ করে ভিন্ন ভাবে সক্ষম ছাত্র ছাত্রীদের ও তাদের পরিবারের সদস্যদের জন্য খুবই সমস্যা ডেকে এনেছে। এই অবস্থায় তাদের যেমন বাইরে নিয়ে যাওয়া যাচ্ছে না তেমনি ঘরেও আটকে রাখা যাচ্ছে না।
তাই তাদের কথা ভেবে ‘সংবেদন’-এর পক্ষ থেকে এই অভিনব প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হয়।গুনমান বিচার করে বাছাই করা প্রতিযোগীদের পুরস্কারও দেওয়া হবে।এর দ্বারা একদিকে বন্দি দশা কাটিয়ে তাদের কিছুটা মনোরঞ্জন করা যাবে, অন্যদিকে তাদের কাজের মধ্যেও আটকে রাখা যাবে।



















