দক্ষিন চব্বিশ পরগনা – যাদবপুর রেলস্টেশন সংলগ্ন এলাকায় উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে রবিবার গভীর রাতে তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়। অবৈধ দোকান ও অস্থায়ী কাঠামো সরানোর প্রশাসনিক পদক্ষেপের বিরোধিতাকে ঘিরে বাম ও কংগ্রেস কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর সংঘর্ষের অভিযোগ ওঠে। ঘটনায় SFI-এর সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য-সহ মোট ছয় জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, যাদবপুর স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় উচ্ছেদ অভিযানের প্রস্তুতি শুরু হতেই সন্ধ্যা থেকেই বিক্ষোভ শুরু হয়। হকার, স্থানীয় বাসিন্দা, বামপন্থী সংগঠনের কর্মী এবং যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু পড়ুয়া এলাকায় জড়ো হয়ে অভিযানের বিরোধিতা করেন। তাঁদের দাবি ছিল, যথাযথ আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না করে উচ্ছেদ অভিযান চালানো উচিত নয়।
রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এলাকায় রেল সুরক্ষা বাহিনী (আরপিএফ), রাজ্য পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়। উচ্ছেদ অভিযানের জন্য বুলডোজ়ার পৌঁছতেই বিক্ষোভকারীরা তার সামনে অবস্থান শুরু করেন। আন্দোলনকারীদের মধ্যে সৃজন ভট্টাচার্য-সহ বাম ও কংগ্রেসের একাধিক নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।
অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে অচলাবস্থা চলার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী লাঠিচার্জ করে। বিক্ষোভকারীদের দাবি, এই ঘটনায় একাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে রাজনৈতিক কর্মী ছাড়াও সাংস্কৃতিক জগতের কয়েকজন পরিচিত মুখ রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। কয়েকজনকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা ও শারীরিক পরীক্ষা করানো হয়েছে।
সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে সৃজন ভট্টাচার্য-সহ মোট ছয় জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পুলিশ ভ্যানে তোলার সময় সৃজন অভিযোগ করেন, প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না করেই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে এবং গণতান্ত্রিক প্রতিবাদকে দমন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উচ্ছেদ অভিযান শেষে যাদবপুর স্টেশন সংলগ্ন একাধিক দোকান ও অস্থায়ী কাঠামো সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। যেসব দোকান এখনও সরানো হয়নি, তাদেরও নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে জায়গা খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে সোমবার ভোর থেকেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ নম্বর গেটের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছে SFI। সংগঠনের দাবি, গ্রেপ্তার হওয়া সকলকে দ্রুত মুক্তি দিতে হবে এবং উচ্ছেদ অভিযান সংক্রান্ত প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের পূর্ণ ব্যাখ্যা দিতে হবে।
উচ্ছেদ অভিযানের পরেও এলাকায় উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে।




















