দাম বেড়েছে, তবুও বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায় সস্তা ভারতের রান্নার গ্যাস! দাবি কেন্দ্রের

দাম বেড়েছে, তবুও বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায় সস্তা ভারতের রান্নার গ্যাস! দাবি কেন্দ্রের

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram



দেশ – গত তিন মাসে দু’দফায় বেড়েছে রান্নার গ্যাসের দাম। সাম্প্রতিক বৃদ্ধিতে সিলিন্ডার-পিছু আরও ২৯ টাকা বেশি গুনতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। ফলে সংসারের খরচের চাপ বেড়েছে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের উপর। তবে এই মূল্যবৃদ্ধির মধ্যেও কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, বিশ্বের বহু দেশের তুলনায় ভারতে গৃহস্থালির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম এখনও তুলনামূলকভাবে অনেক কম এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে তা ন্যূনতম মূল্যের মধ্যে রয়েছে।

কেন্দ্রীয় সূত্রের দাবি, ভারতের এলপিজি আমদানির মূল্য নির্ধারণে সৌদি কনট্র্যাক্ট প্রাইস (সিপি) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই সিপি আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির অন্যতম প্রধান বেঞ্চমার্ক হিসেবে বিবেচিত হয়। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির মূল্য প্রায় ৪৬ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানানো হয়েছে। পশ্চিম এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানিবাহী জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার অনিশ্চয়তাকে এর প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতেও কেন্দ্রীয় সরকারের বক্তব্য, ভারতীয় গ্রাহকদের এখনও তুলনামূলকভাবে কম দামে রান্নার গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। সরকারের দাবি অনুযায়ী, পাকিস্তান, নেপাল, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা-সহ একাধিক প্রতিবেশী দেশে এলপিজির দাম ভারতের চেয়ে বেশি। পাশাপাশি আমেরিকা, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার মতো উন্নত অর্থনীতির দেশগুলিতেও গৃহস্থালির গ্যাসের মূল্য ভারতের তুলনায় বেশি রয়েছে।

সরকার আরও জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠার পরও দেশে রান্নার গ্যাসের সরবরাহে কোনও ঘাটতি তৈরি হয়নি। ইরান, আমেরিকা ও ইজরায়েলকে কেন্দ্র করে পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং হরমুজ প্রণালী ঘিরে অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও ভারতীয় বাজারে এলপিজির জোগান স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হয়েছে। এর জন্য দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি এবং সরবরাহ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার উপর জোর দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় তথ্য অনুযায়ী, এই পদক্ষেপের ফলে পূর্ববর্তী আর্থিক বর্ষের শেষে দেশীয় বাজারে এলপিজি বিক্রির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। যেখানে আগের অর্থবর্ষে বিক্রির পরিমাণ ছিল ৪১,৩৩৮ কোটি টাকা, সেখানে পরবর্তী অর্থবর্ষে তা বেড়ে প্রায় ৬০,০০০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।

এদিকে সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধির ফলে গ্রাহকদের উপর আর্থিক চাপ আরও বেড়েছে। গত ১ জুন কলকাতায় বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডারের দাম ৫৩ টাকা ৫০ পয়সা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ৩,২৫৫ টাকা ৫০ পয়সায়। এরপর মাত্র পাঁচ দিনের ব্যবধানে ১৪.২ কেজির গৃহস্থালির গ্যাস সিলিন্ডারের দামও বাড়ানো হয়। বর্তমানে কলকাতায় একটি গৃহস্থালির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৯৬৮ টাকা। একইসঙ্গে ৫ কেজি ও ১০ কেজি সিলিন্ডারের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামের ওঠানামা এবং ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়ছে দেশের গ্যাস বাজারে। তবে কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি ও সাধারণ মানুষের ক্রমবর্ধমান খরচের বাস্তবতার মধ্যে ব্যবধান নিয়েই এখন শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top