উত্তরবঙ্গের উন্নয়নে একগুচ্ছ বড় সিদ্ধান্ত, ‘হিমালয়ান হিল সিটি’ গড়ার পরিকল্পনা রাজ্যের

উত্তরবঙ্গের উন্নয়নে একগুচ্ছ বড় সিদ্ধান্ত, ‘হিমালয়ান হিল সিটি’ গড়ার পরিকল্পনা রাজ্যের

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram



রাজ্য – উত্তরবঙ্গের সার্বিক উন্নয়নকে সামনে রেখে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। উত্তরকন্যায় অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠকের পর মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানান, অনুমোদনহীন খারিজি মাদ্রাসাগুলির উপর কড়া নজরদারি চালানো হবে এবং প্রয়োজন হলে তদন্তের জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে উত্তরবঙ্গের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ শহরকে নিয়ে ‘হিমালয়ান হিল সিটি’ গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও ঘোষণা করা হয়েছে।

রবিবার উত্তরকন্যায় আয়োজিত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী, প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিক, বিভিন্ন জেলার জেলাশাসক এবং পুলিশ কর্তারা। বৈঠক শেষে অগ্নিমিত্রা পাল জানান, সরকারি স্বীকৃতিপ্রাপ্ত মাদ্রাসাগুলিতে শিক্ষার মান, পরিকাঠামো এবং শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখতে মনিটরিং ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হবে। পাশাপাশি অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানগুলির কার্যকলাপও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।

সরকারের নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী শিলিগুড়ি, দার্জিলিং, কার্শিয়াং, কালিম্পং এবং মিরিককে একত্রিত করে ‘হিমালয়ান হিল সিটি’ প্রকল্প গড়ে তোলা হবে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে পর্যটন শিল্পের সম্প্রসারণ, নাগরিক পরিষেবার উন্নয়ন, পানীয় জল সরবরাহের আধুনিকীকরণ এবং সামগ্রিক পরিকাঠামো উন্নয়নের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

মন্ত্রী আরও জানান, আধুনিক প্রশাসনিক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে শহরগুলির প্রতিটি বাড়িতে কিউআর কোড সংযুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সরকারি জমিতে আবাসন নির্মাণ, উন্নত মানের সুলভ শৌচালয় তৈরি এবং পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে আধুনিক পরিষেবা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট দফতরগুলিকে।

সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রেও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাল্যবিবাহ, নারী ও নাবালিকা পাচার এবং অল্প বয়সে গর্ভধারণের মতো সমস্যার বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণের কথা ঘোষণা করেছে সরকার। এই বিষয়ে প্রশাসন, পুলিশ এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাকে নিয়ে একটি বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন মন্দিরে ভক্তদের সমাগম সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ২০ তারিখের মধ্যে জনপ্রিয় মন্দিরগুলির তালিকা প্রস্তুত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্রশাসনকে। সূত্রের খবর, ভবিষ্যতে ধূপকাঠি উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনার সঙ্গে এই উদ্যোগের সম্পর্ক থাকতে পারে।

পরিচ্ছন্ন শহর গড়ার লক্ষ্যে আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে উন্মুক্ত স্থানে আবর্জনা ফেলা এবং প্লাস্টিক ব্যবহারের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে। নিয়ম লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে জরিমানার ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি অবৈধ পার্কিং নিয়ন্ত্রণে আগামী ১ জুলাই থেকে স্বয়ংক্রিয় পার্কিং ব্যবস্থা চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মাদক পাচার রোধেও কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। গাঁজা, ব্রাউন সুগার এবং অন্যান্য মাদকের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পুলিশকে। একইসঙ্গে মাদকাসক্তদের পুনর্বাসনের জন্য বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণের কথাও জানানো হয়েছে।

প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলের মতে, উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং সামাজিক নিরাপত্তাকে সমান গুরুত্ব দিয়েই এই নতুন কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। আগামী কয়েক মাসে প্রকল্পগুলির বাস্তবায়ন কতটা এগোয়, সেদিকেই নজর থাকবে সকলের।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top