রাজ্য – পশ্চিমবঙ্গের চা-বাগান এলাকার শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারের কল্যাণে ‘প্রধানমন্ত্রী চা শ্রমিক উৎসাহ যোজনা’ বাস্তবায়নের পথে বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় রাজ্যের জন্য প্রায় ৩১৩.৩০ কোটি টাকার আর্থিক বরাদ্দ নির্ধারিত হয়েছে। প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য উত্তরবঙ্গের চা-বাগান এলাকায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং শ্রমিকদের কাজের পরিবেশ ও বিশ্রামের পরিকাঠামো উন্নত করা।
প্রকল্পের আওতায় চা শ্রমিকদের পরিবারের শিশুদের শিক্ষার পরিকাঠামো উন্নয়নে প্রায় ১৭৭ কোটি টাকা, স্বাস্থ্য পরিষেবা শক্তিশালী করতে ৭২ কোটি টাকা এবং বিশ্রামাগার তৈরিতে ৬৩ কোটি টাকা বরাদ্দের কথা জানানো হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী পাহাড় ও সমতল মিলিয়ে ৩২১টি বিশ্রামাগার তৈরির উদ্যোগ রয়েছে। দার্জিলিং, তরাই ও ডুয়ার্সের চা-বাগান এলাকার শ্রমিকদের কাছে এই পরিষেবাগুলি পৌঁছে দেওয়াই প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য।
এর পাশাপাশি পুজোর আগে উত্তরবঙ্গের চা শ্রমিকদের জন্য আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। দার্জিলিং পাহাড়, তরাই ও ডুয়ার্সের চা-বাগানের শ্রমিকদের ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের জন্য ২০ শতাংশ হারে পুজো বোনাস দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শ্রম দফতরের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ৫ অক্টোবরের মধ্যে বোনাসের টাকা মিটিয়ে দেওয়ার কথা।
ফলে একদিকে দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বিশ্রাম-পরিকাঠামো উন্নয়নের প্রকল্প, অন্যদিকে উৎসবের আগে বোনাস—দুই দিক থেকেই উত্তরবঙ্গের চা শ্রমিকদের ঘিরে একাধিক সরকারি উদ্যোগ সামনে এসেছে। চা-বাগান এলাকার সামাজিক পরিকাঠামো এবং শ্রমিক পরিবারের জীবনযাত্রায় এই প্রকল্পগুলির বাস্তবায়ন কতটা প্রভাব ফেলবে, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।




















