রাজ্য – কাকভোরে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের পটুয়াপাড়ার বাড়িতে তল্লাশি চালাল শালবনি থানার পুলিশ। অভিযোগ, অভিষেকের ঘনিষ্ঠ সহায়ক সুমিত রায়ের খোঁজে এই অভিযান চালানো হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বাড়িতে দীর্ঘক্ষণ সাড়া না মেলায় শেষ পর্যন্ত তালা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করেন তদন্তকারীরা। তল্লাশির সময় বাড়ির বাইরে মোতায়েন ছিল কেন্দ্রীয় বাহিনী।
ঘটনার পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, পুলিশ তালা ভেঙে বাড়িতে ঢুকে সম্পূর্ণ বাড়ি তল্লাশি করেছে এবং সেই সংক্রান্ত সমস্ত রেকর্ড তাঁর কাছে রয়েছে। তিনি জানান, তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করা হয়েছে এবং পুলিশকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে দাবি, শালবনির এক তৃণমূল নেতার অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, সুমিত রায় নাকি রাজনৈতিক টিকিট পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। সেই অভিযোগের তদন্তে সুমিত রায়ের মোবাইল ফোনের টাওয়ার লোকেশন বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা কালীঘাটের ওই ঠিকানার সন্ধান পান। এরপর শালবনি থানার একটি বিশেষ পুলিশ দল ডিএসপির নেতৃত্বে গভীর রাতে কলকাতায় পৌঁছায়। প্রথমে কালীঘাট থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয় এবং পরে ভোররাত তিনটে নাগাদ অভিযান শুরু হয়।
তদন্তকারী দলের সঙ্গে মহিলা পুলিশ আধিকারিকও উপস্থিত ছিলেন। সূত্রের খবর, দীর্ঘক্ষণ বাড়ির সদস্যদের ডাকাডাকি করা হলেও কোনও সাড়া না পাওয়ায় তালা ভেঙে ভিতরে প্রবেশের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কয়েক ঘণ্টা ধরে তল্লাশি চালানোর পর সকাল সাতটার কিছু পরে পুলিশ সেখান থেকে বেরিয়ে যায়। যদিও তদন্ত এখনও অব্যাহত রয়েছে এবং সুমিত রায়ের অন্যান্য সম্ভাব্য ঠিকানাতেও অভিযান চালানো হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।
তল্লাশির খবর প্রকাশ্যে আসতেই দ্রুত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে পৌঁছন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি সরাসরি বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করেন এবং অভিষেকের সঙ্গে কিছুক্ষণ আলোচনা করেন বলে সূত্রের খবর। তবে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের কোনও উত্তর দেননি তিনি।
উল্লেখ্য, বর্তমানে একাধিক মামলায় তদন্তের মুখোমুখি হয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিধানসভার সই জাল সংক্রান্ত মামলায় সম্প্রতি তাঁকে ভবানীভবনে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং আগামী রবিবার ফের হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ রয়েছে। পাশাপাশি ডিজে মন্তব্য সংক্রান্ত মামলাতেও তাঁকে আগামী ১৬ জুন হাজিরা দিতে বলা হয়েছে। এর মধ্যেই ১৫ জুন ইডি দপ্তরেও তাঁর হাজিরা দেওয়ার কথা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তাঁর ঘনিষ্ঠ সহায়কের বিরুদ্ধে ওঠা আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তে বাড়িতে পুলিশের তল্লাশি নতুন করে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে।




















