রাজ্য – দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে অবশেষে তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী পরাজয় নিয়ে মুখ খুললেন বীরভূমের প্রভাবশালী নেতা অনুব্রত মণ্ডল। বোলপুরে জেলা তৃণমূল কার্যালয়ে একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে দলের ভরাডুবির মূল কারণ আইপ্যাক। তাঁর কথায়, “আইপ্যাক এসেছে, দল শেষ হয়েছে। সংগঠনের শক্তিতেই দল চলে, আইপ্যাক দিয়ে দল চলে না।”
নির্বাচনে তাঁকে কোনও দায়িত্ব না দেওয়ার বিষয়েও আক্ষেপ প্রকাশ করেন অনুব্রত। রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “সম্মান পেলে দল করব, না পেলে নীরব থাকব।” যদিও এখনও পর্যন্ত অন্য কোনও রাজনৈতিক দলে যোগ দেওয়ার বিষয়ে তিনি ভাবেননি বলেই জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, এখনও তৃণমূলের ছাপ তাঁর গায়ে লেগে রয়েছে এবং প্রতিদিন তিনি বোলপুরের দলীয় কার্যালয়ে আসেন, যেটিকে তিনি নিজের ‘মন্দির’ বলে মনে করেন।
আইপ্যাকের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগও তুলেছেন অনুব্রত মণ্ডল। তাঁর দাবি, সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বাইরে পাচার করা হয়েছে এবং বাস্তব পরিস্থিতি না বুঝেই দলকে ভুল পথে পরিচালিত করা হয়েছে। এমনকি ক্ষমতা ও পদ পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ সংগ্রহের অভিযোগও তোলেন তিনি।
অতীতের উদাহরণ তুলে ধরে অনুব্রত বলেন, ১৯৯৮ সালে তৃণমূল কংগ্রেস গঠনের সময় কোনও আইপ্যাক ছিল না। ২০০৯ সালে শতাব্দী রায়ের জয়, ২০১১ সালে সরকার গঠন এবং পরবর্তী একাধিক নির্বাচনী সাফল্যও সংগঠনের শক্তিতেই এসেছে বলে তাঁর দাবি। সেই কারণেই তিনি প্রশ্ন তোলেন, “তাহলে আইপ্যাকের প্রয়োজন হল কেন?”
বীরভূমের রাজনৈতিক বাস্তবতা প্রসঙ্গে অনুব্রতের বক্তব্য, বাইরের পরামর্শদাতারা স্থানীয় সংগঠন ও জনমনের প্রকৃত অবস্থা কখনও বুঝতে পারেন না। তাঁর অভিযোগ, বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সংযোগ না রেখেই আইপ্যাক সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যার ফল ভুগতে হয়েছে দলকে।
বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর প্রথমবার প্রকাশ্যে এসে দলের সাংগঠনিক দুর্বলতা, আইপ্যাকের ভূমিকা এবং নিজের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে একের পর এক বিস্ফোরক মন্তব্য করায় রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।




















