রাজ্য – রাজ্যজুড়ে ফুটপাথ দখলমুক্ত করার সরকারি অভিযান চলাকালীন হকারদের ভবিষ্যৎ ও পুনর্বাসন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বেআইনি দখলদারির বিরুদ্ধে প্রশাসনিক অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে স্পষ্ট জানিয়ে তিনি বলেন, যাঁরা জীবিকার তাগিদে ফুটপাথের উপর নির্ভরশীল, তাঁদের জন্য ভবিষ্যতে পুনর্বাসনের বিষয়টিও সরকার বিবেচনা করবে। তাঁর এই মন্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
শুক্রবার বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ফুটপাথ সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য নির্ধারিত। তাই জনসাধারণের ব্যবহারের জায়গা দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করার অধিকার কারও নেই। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, জনস্বার্থের প্রশ্নে সরকার কোনওরকম আপস করবে না এবং আইন অনুযায়ী বেআইনি দখলদারির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, যেখানে সরকারি খাস জমি রয়েছে এবং সেখানে জনসাধারণের চলাচল বা প্রয়োজনের সঙ্গে কোনও সংঘাত তৈরি হচ্ছে না, সেইসব ক্ষেত্রে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিতে পুনর্বাসনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হতে পারে। তবে গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা, ব্যস্ত বাজার এলাকা বা জনবহুল অঞ্চলে ফুটপাথ ও রাস্তা দখল করে ব্যবসা চালানোর অনুমতি দেওয়া হবে না বলেও তিনি স্পষ্ট করে দেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, নিউ মার্কেট, রাজাবাজার, খিদিরপুর এবং মেটিয়াবুরুজের মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ফুটপাথ ও রাস্তা দখল হয়ে যাওয়ার ফলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াত ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়। জরুরি পরিষেবা, যান চলাচল এবং পথচারীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই সরকার এই বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বলে জানান তিনি। তাঁর মতে, সরকারের প্রথম এবং প্রধান দায়িত্ব হলো সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষা করা।
এদিকে হাওড়া, শিয়ালদহ, যাদবপুর এবং দমদম-সহ একাধিক এলাকায় বেআইনি হকার উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা ক্রমশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই অভিযানের বিরোধিতা করে পথে নেমেছে বিভিন্ন বামপন্থী সংগঠন। যাদবপুরে আন্দোলন কর্মসূচির সময় সিপিএম নেতা সৃজন ভট্টাচার্য-সহ একাধিক কর্মীকে আটক করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র হয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে একদিকে যেমন ফুটপাথ দখলমুক্ত করার বার্তা দেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে হকারদের পুনর্বাসনের আশ্বাসও সামনে এসেছে। ফলে আগামী দিনে এই নীতির বাস্তবায়ন কীভাবে হয় এবং পুনর্বাসনের রূপরেখা কতটা কার্যকরভাবে গড়ে ওঠে, সেদিকেই নজর থাকবে রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের।




















