২৪ ঘণ্টার মধ্যে সুর বদল কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের, ‘অভিষেক আমার সন্তানসম’ মন্তব্যে জল্পনা রাজনৈতিক মহলে

২৪ ঘণ্টার মধ্যে সুর বদল কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের, ‘অভিষেক আমার সন্তানসম’ মন্তব্যে জল্পনা রাজনৈতিক মহলে

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram



রাজ্য – মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে সম্পূর্ণ ভিন্ন সুর শোনা গেল তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের গলায়। সই জাল কাণ্ডে সিআইডি তদন্ত সংক্রান্ত মামলায় কলকাতা হাইকোর্টে আইনি লড়াইয়ের সময় আচমকা তাঁকে সরিয়ে দেওয়া নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বৃহস্পতিবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছিলেন তিনি। তবে শুক্রবার সেই অবস্থান থেকে অনেকটাই সরে এসে অভিষেককে ‘সন্তানসম’ বলে উল্লেখ করেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “অভিষেক আমার সন্তানসম। ও যদি বুঝতে পারে কোথায় ভুল হয়েছে, তাহলে ওকে বুকে জড়িয়ে নেব।” তাঁর এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। তৃণমূলের দুই গুরুত্বপূর্ণ নেতার মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন মিটতে চলেছে কি না, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে বিভিন্ন মহলে।

উল্লেখ্য, মাত্র একদিন আগেই সম্পূর্ণ ভিন্ন অবস্থানে ছিলেন শ্রীরামপুরের সাংসদ। কলকাতা হাইকোর্টে চলা একটি মামলায় আইনজীবী হিসেবে তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একাধিক বিস্ফোরক মন্তব্য করেছিলেন তিনি। সেই সময় তিনি দাবি করেছিলেন, দলের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য অভিষেকের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলার প্রয়োজন রয়েছে। এমনকি তাঁর বক্তব্যে তৃণমূলের অন্দরে অসন্তোষের ইঙ্গিতও মিলেছিল।

বৃহস্পতিবার কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছিলেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কারণে দলের নেতাকর্মীদের বিভিন্ন সময়ে বিরূপ পরিস্থিতির মুখে পড়তে হচ্ছে। তিনি আরও বলেছিলেন, “ওর জন্য আমাদের চোর-চোর স্লোগান শুনতে হচ্ছে। ওর জন্য দলটা শেষ হয়েছে, তার পরেও ঔদ্ধত্য যায়নি।” এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়েছিল এবং বিরোধী দলগুলিও বিষয়টি নিয়ে কটাক্ষ করতে শুরু করেছিল।

শুধু তাই নয়, ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে তিনি পরোক্ষে দল ছাড়ার ইঙ্গিতও দিয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সহযোদ্ধা হিসেবে কাজ করেছেন এবং তাঁকে শ্রদ্ধা করেন। তবে ভবিষ্যতে নেতৃত্বকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে—দল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে থাকবে নাকি অন্য পথ বেছে নেবে। সেই প্রসঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, পরিস্থিতি অনুকূল না হলে তাঁর পক্ষে দলে থাকা কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

তবে শুক্রবারের বক্তব্যে সংঘাতের বদলে অনেকটাই সমঝোতার ইঙ্গিত মিলেছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দলের অভ্যন্তরীণ মতভেদ প্রকাশ্যে এলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শীর্ষ নেতৃত্ব সক্রিয় হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নরম সুর তৃণমূলের অন্দরে নতুন বার্তা বহন করছে বলেই মনে করা হচ্ছে।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top