রাজ্য – বিয়ের পর থেকে দিলীপ ঘোষের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছিল রাজ্য রাজনীতিতে। অনেকেই মনে করেছিলেন, ব্যক্তিগত জীবনের পরিবর্তনের পর কিছুটা হলেও ব্যাকফুটে চলে গিয়েছেন বিজেপি নেতা। তবে বাংলায় বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর সেই সমস্ত জল্পনায় কার্যত ইতি টানলেন দিলীপ ঘোষ। শনিবার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে নতুন সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন তিনি। আর এই ঘটনাকে ঘিরেই আবেগঘন প্রতিক্রিয়া দিলেন তাঁর স্ত্রী রিঙ্কু মজুমদার।
শপথগ্রহণের পর রিঙ্কু বলেন, গত এক বছরে তাঁকে বহু সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। বিয়ের পর থেকেই নানা মহল থেকে কটাক্ষ শুনতে হয়েছে তাঁকে। কখনও বলা হয়েছে তিনি তৃণমূল ঘনিষ্ঠ, কখনও আবার অন্য কোনও লবির সঙ্গে যুক্ত বলেও অভিযোগ উঠেছে। এমনকি দিলীপ ঘোষের রাজনৈতিক কেরিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার জন্যও তাঁকেই দায়ী করা হয়েছে বলে জানান রিঙ্কু। সোশ্যাল মিডিয়াতেও তাঁকে নিয়ে কম সমালোচনা হয়নি। তবে বাংলায় বিজেপির ক্ষমতায় আসা এবং দিলীপ ঘোষের মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর সেই সমস্ত ‘বদনাম ঘুচে গেল’ বলেই মনে করছেন তিনি।
শনিবার রাজ্যে বিজেপি সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে। সেখানে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন শুভেন্দু অধিকারী। পাশাপাশি দিলীপ ঘোষ-সহ আরও পাঁচ জন মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানের পর মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে যান রিঙ্কু মজুমদার। সেই সময় শুভেন্দু অধিকারী তাঁকে ‘ম্যাডাম মিনিস্টার’ বলে সম্বোধন করেন বলে জানান তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর এই সম্বোধনে তিনি অত্যন্ত আপ্লুত হয়েছেন বলেও জানান।
রিঙ্কুর কথায়, পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি গোটা দেশের রাজনৈতিক সমীকরণ নির্ধারণ করে। তাই বাংলায় এই পরিবর্তনকে তিনি “দ্বিতীয় স্বাধীনতা” হিসেবেই দেখছেন। তাঁর মতে, দিলীপ ঘোষ এবং শুভেন্দু অধিকারীর জুটি ইতিমধ্যেই বাংলার রাজনীতিতে বড়সড় পরিবর্তন এনে দিয়েছে। আগামীদিনে সকলে মিলে রাজ্যের উন্নয়নের জন্য কাজ করবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
রাজনৈতিক মহলের মতে, বিজেপির নতুন সরকারে দিলীপ ঘোষের মন্ত্রীত্ব শুধু দলের অন্দরে তাঁর গুরুত্বই বাড়ায়নি, বরং সাম্প্রতিক নানা বিতর্ক ও জল্পনারও কার্যত জবাব দিয়ে দিল।



















