রাজ্য – উত্তরবঙ্গের একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারে এগিয়ে এল ভারতীয় সেনাবাহিনীর ত্রিশক্তি কোর। জেলা প্রশাসনের আবেদনে সাড়া দিয়ে দুধিয়ায় বালাসন নদীর উপর ৩৪ মিটার দীর্ঘ একটি অস্থায়ী ফুটব্রিজ নির্মাণ করেছে সেনা। এর ফলে শিলিগুড়ি ও মিরিকের মধ্যে যোগাযোগ আবারও চালু হয়েছে। পাশাপাশি পশুপতি ফাটক-সহ সীমান্তবর্তী গুরুত্বপূর্ণ রুটগুলিতেও যাতায়াত অনেকটাই সহজ হয়ে উঠবে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, টানা ভারী বৃষ্টির জেরে বালাসন নদীর উপর থাকা আগের সেতুটি ভেসে যাওয়ায় এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়েছিল। ফলে স্থানীয় বাসিন্দা, নিত্যযাত্রী, ব্যবসায়ী এবং পর্যটকদের চরম দুর্ভোগের মুখে পড়তে হয়। গুরুত্বপূর্ণ এই সংযোগপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বহু মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছিল।
এই পরিস্থিতিতে দ্রুত পদক্ষেপ করে ভারতীয় সেনাবাহিনী অস্থায়ী ফুটব্রিজ নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করেছে। সেনা সূত্রে জানা গিয়েছে, আপাতত এই সেতুর মাধ্যমে সাধারণ মানুষ নিরাপদে পায়ে হেঁটে বালাসন নদী পারাপার করতে পারবেন। এতে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ অনেকটাই স্বাভাবিক হবে।
তবে শুধুমাত্র ফুটব্রিজ নির্মাণেই সীমাবদ্ধ থাকছে না সেনার উদ্যোগ। জেলা প্রশাসনের অনুরোধে খুব শীঘ্রই একটি বড় বেইলি ব্রিজ নির্মাণের কাজও শুরু করা হবে বলে জানানো হয়েছে। সেই সেতু তৈরি হলে ভবিষ্যতে যানবাহন চলাচলও সম্ভব হবে এবং পুরো যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বেইলি ব্রিজ তৈরি হলে শুধু সাধারণ মানুষের যাতায়াতই সহজ হবে না, উত্তরবঙ্গের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন অঞ্চল মিরিকের পর্যটন শিল্পও নতুন করে গতি পাবে। এলাকার বহু মানুষের জীবিকা পর্যটনের উপর নির্ভরশীল হওয়ায় এই উদ্যোগ স্থানীয় অর্থনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ফুটব্রিজ নির্মাণের সময় নিরাপত্তা এবং স্থায়িত্বের বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়েছে। সাধারণ মানুষ যাতে নির্ভয়ে সেতুটি ব্যবহার করতে পারেন, তার জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
এক সেনা আধিকারিক জানিয়েছেন, “প্রয়োজনের সময়ে নাগরিক প্রশাসন এবং স্থানীয় মানুষের পাশে দাঁড়াতে ভারতীয় সেনাবাহিনী সবসময় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার হওয়ায় সাধারণ মানুষের যাতায়াত সহজ হবে এবং পর্যটনও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরবে। স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত এই উদ্যোগ এলাকার মানুষের জন্য বড় স্বস্তি হয়ে থাকবে।”
সেনাবাহিনীর এই দ্রুত পদক্ষেপ এবং জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বিত উদ্যোগ আবারও প্রমাণ করল যে দুর্যোগের সময়ে প্রশাসন ও সেনার যৌথ প্রচেষ্টা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক করতে কতটা কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে।




















