রাজ্য – পশ্চিমবঙ্গে একের পর এক রেল ও মেট্রো প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এবার আরও সক্রিয় হল রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মনে করছেন, এই প্রকল্পগুলি সম্পূর্ণ হলে রাজ্যে যেমন পরিকাঠামোর উন্নয়ন হবে, তেমনই তৈরি হবে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও। দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা চিংড়িঘাটা মেট্রো প্রকল্পের জট কাটার পর এবার বাকি রেল প্রকল্পগুলির কাজও দ্রুত শেষ করতে চাইছে রাজ্য সরকার।
এই লক্ষ্যেই নবান্নে রেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৈঠকে রাজ্যের নির্মীয়মাণ রেল ও মেট্রো প্রকল্পগুলির অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। প্রত্যেক রেল জোনের জেনারেল ম্যানেজাররাও ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
নবান্ন সূত্রে খবর, আগামী ৬ জুন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব পশ্চিমবঙ্গে আসতে পারেন। যদি সেই সফর চূড়ান্ত হয়, তাহলে রাজ্যের জন্য বড় কোনও রেল বা মেট্রো প্রকল্পের ঘোষণা হতে পারে বলেও জল্পনা শুরু হয়েছে। বৈঠকে বিভিন্ন প্রকল্পের বর্তমান পরিস্থিতি এবং কোথায় কী সমস্যা রয়েছে, তা নিয়ে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন মুখ্যমন্ত্রী।
রাজ্য সরকারের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, জমিজট বা অন্য কোনও প্রশাসনিক সমস্যার কারণে আর কোনও রেল প্রকল্প আটকে থাকবে না। এই আশ্বাসে রেল কর্তৃপক্ষও সন্তোষ প্রকাশ করেছে বলে সূত্রের খবর। কোন প্রকল্প কোথায় আটকে রয়েছে এবং কীভাবে তার সমাধান সম্ভব, তা নিয়ে রাজ্যের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেছে রেল।
শুধু রেল নয়, মেট্রো প্রকল্পগুলির কাজেও গতি আনার উপর জোর দেওয়া হয়েছে বৈঠকে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী শুরু থেকেই কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে সমন্বয় রেখে উন্নয়নের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়ে এসেছেন। এদিনের বৈঠকেও তিনি আধিকারিকদের আরও দ্রুততার সঙ্গে কাজ করার নির্দেশ দেন।
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, রেলের একাধিক প্রকল্পে জমি সংক্রান্ত জট দ্রুত মেটানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি মেট্রো সম্প্রসারণের কাজ যাতে কোনওভাবেই থমকে না থাকে, সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে। যে কোনও সমস্যায় রেল কর্তৃপক্ষের পাশে থাকার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।
ইতিমধ্যেই দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা চিংড়িঘাটা মেট্রো প্রকল্পের জটিলতা কাটানো সম্ভব হয়েছে। মাত্র ১২০ ঘণ্টারও কম সময়ে দু’দফায় মেট্রো লাইন জোড়ার কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি বছরের শেষেই ওই লাইনে মেট্রো পরিষেবা চালু হতে পারে।
সূত্রের খবর, রাজ্যের অন্য কোনও রেল বা মেট্রো প্রকল্পেও একই ধরনের জট রয়েছে কি না, তা নিয়েও বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সব মিলিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্যের সমন্বয়ে বাংলার পরিকাঠামো উন্নয়নে এবার নতুন গতি আসতে পারে বলেই মনে করছে প্রশাসনিক মহল।




















