রাজ্য -;ক্ষমতায় আসার পর প্রথম জেলা সফরেই প্রশাসন ও পুলিশকে কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী Suvendu Adhikari। আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নে কোনও রকম ঢিলেমি বরদাস্ত করা হবে না বলেই স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। পুলিশের উপর হামলা, অপরাধীদের দৌরাত্ম্য, নারী সুরক্ষা এবং রাজনৈতিক হিংসার অভিযোগ—সবকিছু নিয়েই প্রশাসনকে কঠোর অবস্থান নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
শনিবার জেলার প্রশাসনিক বৈঠকে পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করেন শুভেন্দু অধিকারী। বৈঠকে মূলত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উপরেই জোর দেওয়া হয়। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত এবং কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। কোনও পরিস্থিতিতেই পুলিশকে দুর্বল অবস্থায় দেখা যাবে না।
বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য ছিল, “পুলিশ মার খেয়েছে—এই খবর যেন কোনও ভাবেই আমার কানে না-আসে।” তাঁর এই বক্তব্যকে প্রশাসনিক মহল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে। পুলিশের মনোবল বাড়ানো এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কড়া অবস্থানের বার্তা দিতেই এই মন্তব্য বলে মনে করা হচ্ছে।
নারী সুরক্ষার বিষয়টিও বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। নির্বাচনী প্রচারে বিজেপি যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, রাজ্যে মহিলাদের নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হবে—সেই বিষয়টিকেই প্রশাসনের সামনে তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি নির্দেশ দেন, যেখানে পর্যাপ্ত পুলিশ কর্মী রয়েছে সেখানে অবিলম্বে মহিলাদের জন্য বিশেষ হেল্প ডেস্ক চালু করতে হবে। পাশাপাশি প্রতিটি মহকুমায় মহিলা থানার সংখ্যা বাড়ানো এবং নতুন মহিলা থানা তৈরির বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
রাজনৈতিক হিংসার অভিযোগ নিয়েও প্রশাসনকে সতর্ক করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, এমন বহু মানুষ রয়েছেন যাঁরা এতদিন ভয় বা বিভিন্ন কারণে থানায় অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি। সেই সমস্ত অভিযোগও গুরুত্ব দিয়ে গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে অতীতে বিভিন্ন কারণে আটকে থাকা বা গুরুত্ব না পাওয়া মামলার ফাইল পুনরায় খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্রশাসনকে।
প্রশাসনিক মহলের মতে, নতুন সরকারের তরফে এই বৈঠক স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে যে আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নে কোনও আপস করা হবে না। রাজনৈতিক পালাবদলের পর প্রশাসনিক অগ্রাধিকারের ছবিও এই বৈঠকের মাধ্যমে অনেকটাই স্পষ্ট হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, পুলিশের মনোবল বাড়ানো এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তার অনুভূতি তৈরি করতেই এই কড়া অবস্থান নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি রাজনৈতিক হিংসা সংক্রান্ত পুরনো অভিযোগ পুনরায় খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলেও মত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।



















