দেশ – এদীর্ঘ বিরতির পর ফের বেঞ্চমার্ক সুদের হার বাড়াল মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ। ২৫ বেসিস পয়েন্ট বৃদ্ধির ফলে সুদের হার ৩.৭৫–৪ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছেছে। আমেরিকার এই আর্থিক নীতির পরিবর্তনের প্রভাব শুধু মার্কিন অর্থনীতিতে সীমাবদ্ধ থাকার সম্ভাবনা নেই, ভারত-সহ বিশ্বের একাধিক উদীয়মান অর্থনীতিতেও তার প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
মার্কিন সুদের হার বাড়লে সেখানে বিনিয়োগের আকর্ষণ সাধারণত বৃদ্ধি পায়। সেই পরিস্থিতিতে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ভারত-সহ উদীয়মান বাজার থেকে অর্থ তুলে মার্কিন ট্রেজারি বা ডলার-নির্ভর সম্পদে বিনিয়োগ করতে পারেন। এর ফলে ভারতীয় শেয়ারবাজারে স্বল্পমেয়াদে অস্থিরতা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগকারীদের বিক্রির চাপ পড়লে Nifty 50 ও Sensex-এর মতো প্রধান সূচকগুলিও তার প্রভাব অনুভব করতে পারে। তবে দেশীয় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী এবং খুচরো বিনিয়োগকারীদের সক্রিয়তা সেই চাপের কিছুটা ভারসাম্য আনতে পারে।
ফেডের সিদ্ধান্তের আর একটি সম্ভাব্য প্রভাব পড়তে পারে ভারতীয় মুদ্রার উপর। মার্কিন সুদের হার বাড়লে ডলারের চাহিদা বৃদ্ধি পেতে পারে, যার ফলে ডলারের তুলনায় টাকার উপর দুর্বল হওয়ার চাপ তৈরি হতে পারে। রুপির মূল্য কমলে বিদেশ থেকে আমদানি করা পণ্যের জন্য বেশি টাকা খরচ করতে হয়। বিশেষ করে অপরিশোধিত তেল, ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ এবং বিভিন্ন শিল্প সরঞ্জামের আমদানি ব্যয় বাড়ার সম্ভাবনা থাকে।
ফলে মার্কিন সুদের হার বৃদ্ধির প্রভাব ভারতীয় বাজারে একাধিক পথে পৌঁছতে পারে—বিদেশি বিনিয়োগের গতিপথ বদল, শেয়ারবাজারে অস্থিরতা এবং মুদ্রার উপর চাপ, যার সঙ্গে যুক্ত হয়ে বাড়তে পারে আমদানির খরচও। আগামী দিনে ফেডের পরবর্তী সিদ্ধান্ত এবং আন্তর্জাতিক বাজারের গতিবিধির উপরই অনেকটা নির্ভর করবে এই প্রভাব কতটা স্থায়ী হয়।




















