রাজ্য – বিজেপির মতো ভেদাভেদের রাজনীতি করে না তৃণমূল কংগ্রেস—এমনই দাবি করে ক্যামাক স্ট্রিটের জনসভা থেকে বিজেপিকে তীব্র নিশানা করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে সর্বধর্ম সমন্বয়ের বার্তা, পাশাপাশি বিজেপির বিরুদ্ধে পক্ষপাতদুষ্ট রাজনীতির অভিযোগও তোলেন তিনি।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বাংলায় কোনও ভেদাভেদ নেই এবং তৃণমূল সকল ধর্ম ও সম্প্রদায়কে সঙ্গে নিয়ে চলে। তাঁর দাবি, উৎসব যত বেশি হবে, ততই ব্যবসায়ীদের আয় বাড়বে এবং রাজ্যের অর্থনীতি শক্তিশালী হবে। বিজেপি ধর্মকে রাজনীতির হাতিয়ার করে সমাজে বিভাজন তৈরি করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
পুলিশ প্রশাসনে রদবদল নিয়েও কেন্দ্রকে কটাক্ষ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, প্রশাসনে বিজেপি ঘনিষ্ঠদের আনা হচ্ছে। একইসঙ্গে জিএসটি প্রসঙ্গ টেনে কেন্দ্রীয় সরকারকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, রাজ্য সরকার মানুষের জন্য কাজ করছে, এসএসকেএমের মতো হাসপাতালে সস্তায় চিকিৎসা পরিষেবা মিলছে, কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার জিএসটির মাধ্যমে রাজ্যের অধিকার কেড়ে নিচ্ছে।
গত ১৪ বছরের উন্নয়ন প্রসঙ্গ টেনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের মন্তব্যের পাল্টা জবাব দেন তিনি। কলকাতাকে ‘বস্তির শহর’ বলা নিয়ে তীব্র আপত্তি জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, বাংলায় গরিব মানুষেরও মর্যাদার সঙ্গে বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে।
পহেলগাঁওয়ে হামলার প্রসঙ্গ টেনে কেন্দ্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। পাশাপাশি ভোটের সময় কেন্দ্রীয় বাহিনী ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও কটাক্ষ করে বলেন, লোডশেডিং করে ইভিএম নিয়ে কারচুপির চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ তাঁর। তৃণমূল কর্মীদের সতর্ক থাকার নির্দেশও দেন তিনি।
দ্বিতীয় দফা ভোটের আগে শেষ রবিবারে যখন উত্তর কলকাতায় রোড শো করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, তখন দক্ষিণ কলকাতায় নিজের কেন্দ্র ভবানীপুরে দাঁড়িয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে সুর চড়ান মমতা। ফলে শেষ পর্যায়ের প্রচারে রাজ্য রাজনীতি কার্যত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।


















