বিজেপির প্রশংসার জেরে ৬ বছরের জন্য সাসপেন্ড ঋজু দত্ত, ক্ষোভ উগরে পোস্ট তৃণমূল মুখপাত্রের

বিজেপির প্রশংসার জেরে ৬ বছরের জন্য সাসপেন্ড ঋজু দত্ত, ক্ষোভ উগরে পোস্ট তৃণমূল মুখপাত্রের

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


রাজ্য – বাংলার রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা। বিজেপি সরকার গঠনের পর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। আর এই আবহেই বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এলেন তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র ঋজু দত্ত। বিজেপির প্রশংসা করে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করার পর শেষ পর্যন্ত তাঁকে দল থেকে ৬ বছরের জন্য সাসপেন্ড করল তৃণমূল কংগ্রেস।
বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জয়ের পর সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্ট করেছিলেন ঋজু দত্ত। সেখানে তিনি বিজেপির কিছু পদক্ষেপের প্রশংসা করেন। পাশাপাশি ভোট-পরবর্তী অশান্তির সময়ে কীভাবে বিজেপির তরফে সহযোগিতা পেয়েছিলেন, সেই অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন তিনি। এরপরই দলের অন্দরে শুরু হয় বিতর্ক। তৃণমূলের পক্ষ থেকে তাঁর কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয় এবং পরে তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
তবে শেষ পর্যন্ত দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে ৬ বছরের জন্য সাসপেন্ড করা হয়েছে ঋজুকে। এই সিদ্ধান্তের পর সামাজিক মাধ্যমে দীর্ঘ পোস্ট করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি। নিজের পোস্টে ঋজু লেখেন, “আমার প্রাণপ্রিয় দল, যে দলকে আমি যৌবনের ১৩টা বছর দিয়েছি, সেই দলই আজ আমাকে ৬ বছরের জন্য সাসপেন্ড করল।” তিনি দাবি করেন, শুধুমাত্র নিজের পরিশ্রম এবং কাজের জোরে তিনি দলের মধ্যে উঠে এসেছেন এবং কোনওভাবেই তিনি “নেপো কিড” নন।
সাসপেনশনের কারণ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ঋজু। তাঁর বক্তব্য, নোটিসে বলা হয়েছে তিনি নাকি শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটির সামনে হাজির হননি। অথচ নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তিনি তৃণমূল ভবনে নিজের জবাব জমা দিয়েছিলেন। তাঁর দাবি, ৯ মে সকাল ১১টা ২৭ মিনিটে তিনি লিখিত জবাব জমা দেন। কিন্তু সম্ভবত সেই জবাব পড়ার আগেই সাসপেনশনের নোটিস তৈরি হয়ে গিয়েছিল।
পোস্টের শেষ অংশে তিনি লেখেন, “ধন্যবাদ অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস। আমি কথা দিচ্ছি, আবার দেখা হবে।” এই মন্তব্য ঘিরেই নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়েছে।
উল্লেখ্য, নির্বাচনে ভরাডুবির পর দলের একাধিক নেতার প্রকাশ্য মন্তব্য নিয়ে ইতিমধ্যেই কড়া অবস্থান নিয়েছিল তৃণমূল নেতৃত্ব। দল স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, কোনও নেতার ব্যক্তিগত মতামতের সঙ্গে দলের অবস্থানের কোনও সম্পর্ক নেই। সেই আবহেই ঋজু দত্তের বিরুদ্ধে এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top