দিল্লী – দেশের বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় দুর্নীতি ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে দিল্লির যন্তর মন্তরে আমরণ অনশনে বসেছেন পরিবেশবিদ ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। অনশন শুরু হতেই আন্দোলনস্থলে জল ও শৌচাগার-সংক্রান্ত পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি।
যন্তর মন্তরে আন্দোলনরত ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে দাবি করেছেন, অনশন শুরু হওয়ার পর থেকেই আন্দোলনকারীদের জন্য জল ও স্যানিটেশন পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, বারবার প্রশাসনের কাছে আবেদন জানানো হলেও কোনও সহযোগিতা মেলেনি। এমনকি সোনম ওয়াংচুকের বয়স ও শারীরিক অবস্থার কথা জানানো হলেও প্রশাসনের মনোভাবে কোনও পরিবর্তন আসেনি বলে তিনি দাবি করেন।
সোনম ওয়াংচুক আগেই ঘোষণা করেছিলেন, শিক্ষাব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং লাদাখের পরিবেশগত সুরক্ষা ও স্বায়ত্তশাসন সংক্রান্ত দাবিতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সরকারের ইতিবাচক পদক্ষেপ না এলে তিনি অনির্দিষ্টকালের অনশনে বসবেন। সেই ঘোষণা অনুযায়ী রবিবার থেকে তাঁর অনশন শুরু হয়েছে। অনশন শুরুর আগে তিনি রাজঘাটে মহাত্মা গান্ধীর সমাধিতে শ্রদ্ধা জানান এবং পরে যন্তর মন্তরে পরীক্ষায় দুর্নীতির অভিযোগে ক্ষতিগ্রস্ত পড়ুয়াদের স্মরণে নীরবতা পালন করেন।
আন্দোলনকারীদের মূল দাবি, বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনিয়ম ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় দায় নির্ধারণ করতে হবে এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ নিশ্চিত করতে হবে। আন্দোলন মঞ্চে দেশজুড়ে পরীক্ষা-সংক্রান্ত বিতর্কে প্রাণ হারানো পড়ুয়াদের স্মরণে একটি প্রতীকী স্মারকও তৈরি করা হয়েছে। এই কর্মসূচিতে বহু ছাত্রছাত্রী, যুবক-যুবতী এবং কৃষক সংগঠনের প্রতিনিধিরা সংহতি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত সংগঠনের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়েছে যে উত্তরপ্রদেশ, হরিয়ানা ও পাঞ্জাবের কয়েকজন কৃষক নেতাকে দিল্লিতে আসা থেকে আটকাতে তাঁদের গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে। তবে এই দাবির স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি। এদিকে পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনার দাবিতে দেশজুড়ে আন্দোলন আরও জোরদার করার ডাক দিয়েছে আন্দোলনকারীরা।



















