রাতের অন্ধকারে অতিরিক্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ, বিতর্কে নির্বাচন কমিশন

রাতের অন্ধকারে অতিরিক্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ, বিতর্কে নির্বাচন কমিশন

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


রাজ্য – জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক দানা বাঁধছে। ভোট নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর থেকেই একাধিক সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে প্রশ্ন উঠছিল, আর এবার রাতের অন্ধকারে অতিরিক্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করায় সেই বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। সোমবার, ২৩ মার্চ, রাত বারোটার কয়েক মিনিট আগে কমিশনের ওয়েবসাইটে এই সাপ্লিমেন্টারি তালিকা আপলোড করা হয়। এর আগে একইভাবে রাতেই মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী এবং স্বরাষ্ট্রসচিব জগদীশ প্রসাদ মীনাকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনাও সমালোচনার মুখে পড়েছিল।
নতুন প্রকাশিত তালিকায় ঠিক কতজন বিবেচনাধীন ভোটারের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, তা নিয়ে এখনও স্পষ্ট করে কিছু জানায়নি নির্বাচন কমিশন। তবে জানা গিয়েছে, এই সাপ্লিমেন্টারি তালিকাটি দুই ভাগে বিভক্ত—অ্যাডিশন ও ডিলিশন। অর্থাৎ, নতুন করে যাঁদের নাম যুক্ত হয়েছে তা অ্যাডিশন তালিকায় থাকবে এবং যাঁদের নাম বাদ পড়েছে, তা ডিলিশন তালিকায় অন্তর্ভুক্ত থাকবে। সূত্রের খবর, বুথভিত্তিক এই তালিকা ডাউনলোড করে সাধারণ ভোটাররা নিজেদের নাম রয়েছে কি না, তা যাচাই করতে পারবেন।
উল্লেখযোগ্যভাবে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশন চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছিল। সেই সময় প্রায় ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জন ভোটারের নাম বিবেচনাধীন ছিল। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুসারে, এই নামগুলির নিষ্পত্তির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ৭০৫ জন বিচারকের উপর, এবং ধাপে ধাপে সংশোধিত তালিকা প্রকাশের কথা জানানো হয়েছিল। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই সোমবার রাতে প্রথম অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।
কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই ৬০ লক্ষ বিবেচনাধীন নামের মধ্যে প্রায় ২৯ লক্ষ নাম নিয়ে প্রথম দফার তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। যদিও এই সংখ্যা নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেনি কমিশন। পাশাপাশি, প্রায় ৪০ শতাংশ নাম বাদ পড়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না বলে সূত্রের দাবি। এই পুরো বিষয়টি নিয়ে মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক সাংবাদিক সম্মেলন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ইতিমধ্যেই এই তালিকা জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের কাছে পৌঁছে গিয়েছে এবং সাধারণ ভোটাররা কমিশনের ওয়েবসাইটে গিয়ে তা দেখতে পারবেন। পাশাপাশি বুথ, বিডিও, এসডিও এবং ডিএম অফিসেও তালিকা প্রকাশ করা হবে, যাতে মানুষ সহজে নিজেদের নাম যাচাই করতে পারেন।
অন্যদিকে, যাঁদের নাম এই তালিকা থেকে বাদ পড়বে, তাঁদের জন্য আপিলের সুযোগ রাখা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে কলকাতা হাই কোর্ট ইতিমধ্যেই ১৯টি ট্রাইবুনাল গঠন করেছে, যেখানে ২৩টি জেলার জন্য ১৯ জন প্রাক্তন বিচারপতি নিয়োজিত রয়েছেন। নাম বাদ পড়া ভোটাররা অনলাইন ও অফলাইন—দুইভাবেই আবেদন করতে পারবেন। অনলাইনে ইসিআইনেট মোবাইল অ্যাপ বা নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদন করা যাবে, আর অফলাইনে জেলাশাসক, অতিরিক্ত জেলাশাসক বা মহকুমাশাসকের দপ্তরে গিয়েও আবেদন জমা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top