দেশ – সংসদে নারী সংরক্ষণ বিল ২০২৬ বা ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সীমানা পুনর্বিন্যাস ইস্যুতে বিরোধীদের তীব্র আক্রমণ শানালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁর দাবি, দক্ষিণের রাজ্যগুলি এই ইস্যুতে ভুল তথ্য ছড়াচ্ছে। একইসঙ্গে পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি জানান, সীমানা পুনর্বিন্যাসের ফলে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলিই বরং বেশি লাভবান হবে।
বৃহস্পতিবার পেশ করা সংবিধান সংশোধনী বিলগুলির বিরুদ্ধে বিরোধীরা সরব হয়েছে। তাদের বক্তব্য, তারা নারী সংরক্ষণের বিরোধী নয়, তবে এই বিলের সঙ্গে সীমানা পুনর্বিন্যাসকে যুক্ত করা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। বিরোধীদের অভিযোগ, ২০১১ সালের জনগণনার ভিত্তিতে জনসংখ্যা অনুযায়ী সীমানা পুনর্বিন্যাস হলে দক্ষিণের রাজ্যগুলির প্রতিনিধিত্ব কমে যাবে এবং হিন্দিভাষী অঞ্চলগুলি প্রভাবশালী হয়ে উঠবে, যা দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর পরিপন্থী।
এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আসন সংখ্যা প্রায় ৫০ শতাংশ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে, যার ফলে সব রাজ্যই অতিরিক্ত প্রতিনিধিত্ব পাবে। উদাহরণ হিসেবে অমিত শাহ বলেন, তামিলনাড়ু ২০টি, কেরল ১০টি, তেলেঙ্গানা ৯টি এবং অন্ধ্রপ্রদেশ ১৩টি অতিরিক্ত লোকসভা আসন পেতে পারে। পাশাপাশি মহারাষ্ট্রেও ২৪টি আসন বাড়তে পারে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০১১ সালের তথ্যের ভিত্তিতে সীমানা পুনর্বিন্যাস করে লোকসভা আসন সংখ্যা ৮৫০-এ উন্নীত করা হতে পারে। এর পরই কার্যকর হবে নারী সংরক্ষণ। তবে বিরোধীদের দাবি, এই দুটি বিষয়কে আলাদা করা হলে তারা নারী সংরক্ষণ বিলকে সমর্থন করতে প্রস্তুত।
সংখ্যার অঙ্কও এই বিতর্কে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সংবিধান সংশোধনী বিল পাস করতে হলে সংসদের প্রতিটি কক্ষে উপস্থিত ও ভোটদানকারী সদস্যদের দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন প্রয়োজন। বর্তমানে লোকসভায় ৫৪৩টি আসনের মধ্যে প্রায় ৩৬০টি আসনের সমর্থন দরকার, যেখানে এনডিএ-র হাতে রয়েছে ২৯৩টি আসন। অন্যদিকে রাজ্যসভায় প্রয়োজনীয় ১৬৩ আসনের তুলনায় এনডিএ-র কাছে রয়েছে প্রায় ১৪২টি আসন। ফলে বিরোধীরা ঐক্যবদ্ধ হলে এই বিল পাস করানো সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে সীমানা পুনর্বিন্যাস ও নারী সংরক্ষণ বিল ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়ছে এবং সংসদের ভেতরে-বাইরে তীব্র বিতর্কের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।




















