বীরভূম – বৃহস্পতিবার বোলপুরে বিজেপি আয়োজিত জনসভায় উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ-এর উপস্থিতি সত্ত্বেও প্রত্যাশিত ভিড় হল না। বোলপুর-এর জেলা পরিষদের ডাকবাংলো মাঠে অনুষ্ঠিত এই সভায় কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতি ছিল নামমাত্র, ফলে মাঠের বড় অংশই ফাঁকা পড়ে থাকতে দেখা যায়। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ঘটনা বীরভূম জেলায় বিজেপির সাংগঠনিক দুর্বলতাকেই সামনে এনে দিল।
সভাকে কেন্দ্র করে আগেভাগেই বড়সড় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। বিশাল মঞ্চ, হেলিপ্যাড, বসার সুব্যবস্থা এবং উন্নত শব্দ ব্যবস্থার আয়োজন করা হয়। বিজেপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, এই সভায় বিপুল জনসমাগম হবে এবং নির্বাচনী প্রচারে নতুন গতি আসবে। কিন্তু বাস্তবে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। আনুমানিক প্রায় ২০০০ মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়, যা এই আকারের সভার জন্য যথেষ্ট কম বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
এই সভায় উপস্থিত ছিলেন বিজেপির জেলা নেতৃত্ব ও একাধিক প্রার্থী, যার মধ্যে ছিলেন দিলীপ ঘোষ, খোকন দাস ও কলিতা মাজি। তবে লাভপুরের প্রার্থী দেবাশিস ওঝাকে এদিন দেখা যায়নি, যা নিয়ে দলের অন্দরে কিছুটা জল্পনা তৈরি হয়েছে।
যোগী আদিত্যনাথ হেলিকপ্টারে ফেরার সময় “বুলডোজার বাবা জিন্দাবাদ” স্লোগান শোনা যায়, যা নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি All India Trinamool Congress। ইতিমধ্যেই তৃণমূলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, বীরভূমে বিজেপির মাটির শক্তি এখনও দুর্বল এবং এই সভা তারই প্রমাণ।
সভায় নিজের বক্তব্যে যোগী আদিত্যনাথ কংগ্রেস, সিপিএম এবং তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, বাংলায় উন্নয়নের টাকা সঠিকভাবে ব্যবহার না হয়ে দুর্নীতির কবলে পড়ছে। পাশাপাশি উত্তরপ্রদেশের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০১৭ সালের আগে সেখানে অরাজকতা থাকলেও বর্তমানে ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের ফলে উন্নয়নের পথে এগোচ্ছে রাজ্য।
বাংলার শিল্প পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, যে বাংলা একসময় দেশের নেতৃত্ব দিত, সেখানে এখন অরাজকতা, গুন্ডারাজ ও মাফিয়ারাজ চলছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-কেও কড়া ভাষায় আক্রমণ করে তিনি অভিযোগ করেন, বাংলায় ধর্মীয় অনুষ্ঠানেও বাধা দেওয়া হয় এবং সাধারণ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিকে সম্মান দেওয়া হয় না। প্রয়োজনে উত্তরপ্রদেশের মতো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।




















